Monday, October 5, 2026
30 C
Dhaka
Monday, October 5, 2026

আইসিসি ওয়ানডে টিম অব দ্য ইয়ার ২০২৪ প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক:

আইসিসি ২০২৪ সালের বর্ষসেরা ওয়ানডে দল ঘোষণা করেছে, যেখানে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। এক নজরে দেখা গেছে, বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ডের কোনো ক্রিকেটার স্থান পাননি। শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালাঙ্কাকে অধিনায়ক করে প্রকাশিত এই একাদশে শ্রীলঙ্কার ৪, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ৩ জন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন।

আইসিসি ওয়ানডে টিম অব দ্য ইয়ার ২০২৪ এর সদস্যরা:১৬ ম্যাচে ৬০৫ রান, গড় ৫০.২, স্ট্রাইক রেট ৯৭.১, ১ সেঞ্চুরি, ৪ হাফ-সেঞ্চুরি। আসালাঙ্কা তার ধারাবাহিক ব্যাটিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কাকে শক্তিশালী করেছেন।

১২ ম্যাচে ৬৯৪ রান, গড় ৬৩.১, স্ট্রাইক রেট ১০৬.৪, ৩ সেঞ্চুরি, ২ হাফ-সেঞ্চুরি। তার ২১০* রানের ইনিংসটি ওয়ানডে ইতিহাসে একজন ওপেনারের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ স্কোর।

১৭ ম্যাচে ৭৪২ রান, গড় ৫৩, স্ট্রাইক রেট ৯০.৬, ১ সেঞ্চুরি, ৬ হাফ-সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহক ছিলেন মেন্ডিস, তার ১৪৩ রানের ইনিংসটি উইকেটরক্ষকদের মধ্যে ২৭তম সর্বোচ্চ স্কোর।

৯ ম্যাচে ৫১৫ রান, গড় ৬৪.৩৭, স্ট্রাইক রেট ১০৫.৫৩, ৩ সেঞ্চুরি, ১ হাফ-সেঞ্চুরি। আইয়ুবের অসাধারণ সেঞ্চুরির মাধ্যমে পাকিস্তানের দল শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

৬ ম্যাচে ১৫ উইকেট, গড় ১৭.৬, সেরা বোলিং ৪/৪৭। আফ্রিদি তার সীমিত ম্যাচের মধ্যে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন সময় তৈরি করেছেন।

৮ ম্যাচে ১৩ উইকেট, গড় ২২.৪, সেরা বোলিং ৫/২৯। রউফ ২০২৪ সালের শেষ দিকে অসাধারণ ফর্মে ছিলেন, বিশেষত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে।

১১ ম্যাচে ৫৩১ রান, গড় ৪৮.২, স্ট্রাইক রেট ৮৯.৭, ৩ সেঞ্চুরি, ২ হাফ-সেঞ্চুরি। গুরবাজ ২০২৪ সালে আফগানিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সহায়তা করেছেন।

১২ ম্যাচে ৪১৭ রান ও ১৭ উইকেট, সেরা বোলিং ৪/১৮। তিনি আফগানিস্তানের জন্য দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন।

১০ ম্যাচে ২৬ উইকেট, গড় ১৫.৬, সেরা বোলিং ৭/১৯। হাসারাঙ্গার ৭/১৯ বোলিং পারফরম্যান্স ২০২৪ সালের অন্যতম সেরা।

৯ ম্যাচে ৪২৫ রান, গড় ১০৬.২, স্ট্রাইক রেট ১২০.১, ১ সেঞ্চুরি, ৪ হাফ-সেঞ্চুরি। রাদারফোর্ড তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শক্তিশালী করেছে।

১১ ম্যাচে ২১ উইকেট, গড় ১৩.৫৭, সেরা বোলিং ৬/২৬। ১৮ বছর বয়সী গাজানফার আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন এবং তার পারফরম্যান্স তাকে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এক নজরে আইসিসি ওয়ানডে টিম অব দ্য ইয়ার ২০২৪:
সাইম আইয়ুব (পাকিস্তান), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (আফগানিস্তান), পাথুম নিসাঙ্কা (শ্রীলঙ্কা), কুশল মেন্ডিস (উইকেটরক্ষক, শ্রীলঙ্কা), চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক, শ্রীলঙ্কা), শেরফানে রাদারফোর্ড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), আজমতউল্লাহ ওমরজাই (আফগানিস্তান), ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা), শাহীন শাহ আফ্রিদি (পাকিস্তান), হারিস রউফ (পাকিস্তান) এবং আল্লাহ গাজানফার (আফগানিস্তান)।

 

 

পিএসএলে শিরোপা জেতার প্রত্যয় রিশাদ হোসেনের

অনলাইন ডেস্ক:

পিএসএলের দশম আসরে শক্তিশালী দল লাহোর কালান্দার্সকে শিরোপা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর রিশাদ হোসেন। শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নিজের শতভাগ উজাড় করে দিতে চান এই পেস বোলার। লাহোর কালান্দার্সের জন্য এটাই হতে যাচ্ছে তার প্রথম পিএসএল আসর, যেখানে দলটি তারকা খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে শক্তিশালীভাবে লড়াই করবে।

লাহোর কালান্দার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় রিশাদ জানান, “আসসালামু আলাইকুম, আমি রিশাদ হোসেন। পিএসএলের দশম আসরে যোগ দিতে পেরে আমি অনেক উচ্ছ্বসিত। এমন একটি চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে খেলতে পারব, এটা নিয়ে আমি গর্বিত। ভক্তদের উদ্দেশে আমি শুধু একটিই বলতে চাই—সবাই দোয়া করবেন যেন আমি আমার সেরাটা দিয়ে লাহোর কালান্দার্সকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারি এবং নিজের অভিজ্ঞতা পিএসএলে প্রদর্শন করতে পারি। শীঘ্রই দেখা হবে ইনশাআল্লাহ পিএসএলে।”

বিগত কিছু সময় আগে রিশাদ বিগ ব্যাশের দল হোবার্ট হারিকেন্সে সুযোগ পেলেও বিপিএলের সূচির সাথে মিল না হওয়ার কারণে সেখানে খেলার সুযোগ পাননি। যদিও বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন, তবুও পিএসএলকে সামনে রেখে তার এই ক্ষুধা আরও বেড়েছে। এবার তিনি পিএসএল শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত।

লাহোর কালান্দার্সে তার মতো আরও অনেক তারকা খেলোয়াড় আছেন, যারা এই আসরে শিরোপা জয়ের জন্য শক্তিশালী দল গঠন করেছে। দুবারের শিরোপাজয়ী অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফখর জামান, ড্যারিল মিচেল, কুশল পেরেরা, হারিস রউফ, সিকান্দার রাজা, টম কারানসহ অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়রা লাহোর কালান্দার্সের শক্তি। এছাড়া রিশাদের দলে আরও আছেন সালমান আলী মির্জা, মোহাম্মদ নাঈম, জামান খান, জাহানদাদ খান, আব্দুল্লাহ শফিক, মোহাম্মদ আখলাক, ডেভিড ভিসা, আসিফ আলী, আসিফ আফ্রিদি, মোমিন কামার ও মোহাম্মদ আজাব।

পিএসএলে এবার তিনজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। রিশাদ হোসেন ছাড়াও লিটন দাস করাচি কিংসের হয়ে এবং নাহিদ রানা পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

 

 

বিপিএলে জমজমাট লড়াই, প্লে-অফের জন্য চলছে লড়াই

অনলাইন ডেস্ক:

বিপিএল ২০২৪-এর চট্টগ্রাম পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিল এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে। রংপুর রাইডার্স একমাত্র দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে, তবে বাকি তিনটি স্থান এখনও ওপেন, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো একে অপরকে টক্কর দিতে প্রস্তুত।

রংপুর রাইডার্স টানা ৮ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে শীর্ষে অবস্থান করছে, যদিও তারা সর্বশেষ ম্যাচে রাজশাহীর কাছে পরাজিত হয়েছে। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফরচুন বরিশাল, যারা ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের জন্য শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই দলটি, রংপুরের কাছে পরাজিত হলেও বাকি ৬ ম্যাচে জয় পেয়ে পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে।

চিটাগং কিংসও প্লে-অফের জন্য প্রস্তুত। দীর্ঘ বিরতির পর বিপিএলে ফিরে, ৯ ম্যাচে ৫টি জয় নিয়ে তারা ১০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। মোহাম্মদ মিথুনের নেতৃত্বাধীন এই দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে আছে।

খুলনা টাইগার্সও সিলেটকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে। টানা দুই জয়ের পর তারা ৪টি ম্যাচে জয় পেয়ে ৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। তাদেরও প্লে-অফে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাজশাহী, যারা টুর্নামেন্টের অন্যতম বিতর্কিত দল, ১০ ম্যাচে ৪টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। তারা বর্তমানে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে এবং প্লে-অফের আশা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।

ঢাকা ক্যাপিটালসের পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ। ১০ ম্যাচে ৩টি জয় নিয়ে তারা প্লে-অফে যাওয়ার জন্য এখন বিভিন্ন সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে। তারা ছয়ে রয়েছে।

সিলেট স্ট্রাইকার্স পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে রয়েছে। ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি জয় নিয়ে তারা প্লে-অফে যাওয়ার জন্য একেবারে পিছিয়ে আছে।

এখনও ১০টি ম্যাচ বাকি রয়েছে, এবং প্লে-অফের জন্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমবে। আগামীকাল রোববার থেকে মিরপুরে শুরু হবে পরবর্তী ম্যাচগুলো। এবারের বিপিএলের ফাইনাল ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেটকে হারিয়ে খুলনা টাইগার্সের প্লে-অফের আশা

অনলাইন ডেস্ক:

বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে সিলেটকে ১৫২ রানে অলআউট করে খুলনা টাইগার্স সহজ জয় লাভ করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে খুলনা তাদের প্লে-অফের স্বপ্ন তাজা রেখেছে। সিলেটের ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ দাঁড়াতে না পারায় খুলনা সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে খুলনা দ্রুত রনি তালুকদারকে হারিয়ে ফেলে। মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে রনি কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরে যান। এরপর ওপেনার জর্জ মানসী ও জাকির হাসান দ্বিতীয় উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়েন। মানসী ৩২ বলে ৫৮ রান করে বিদায় নেন। এর পর একাই লড়াই চালিয়ে যান জাকির, ৩২ বলে ৪৪ রান করেন। সিলেটের বাকি ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত বিরতিতে ফিরে যান, এবং ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান করে।

খুলনার পক্ষে হাসান মাহমুদ, আবু হায়দার রনি ও সালমান ইরশাদ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি করে উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ, আমের জামাল ও নাসুম আহমেদ।

জবাবে, খুলনার ব্যাটিংয়ে এক মেহেদী হাসান মিরাজই ম্যাচের রণকৌশল পাল্টে দেন। ৫০ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭০ রান করে তিনি দলের জয় নিশ্চিত করেন। তার বিদায়ের পর অ্যালেক্স রস, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও উইলিয়াম বাসিস্তো জয় এনে দেন। খুলনা ১ বল হাতে রেখেই জয়লাভ করে, এবং পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে ফিরে চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করে।

 

 

বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের ভ্রমণ, স্বাভাবিক হচ্ছে পর্যটন শিল্প

অনলাইন ডেস্ক:

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ ভ্রমণ করেছে, যা করোনা মহামারির আগের স্তরের পর্যটন প্রবণতায় ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থার তথ্যে দেখা গেছে, মহামারির পর প্রথমবারের মতো পর্যটন শিল্পে এমন স্বাভাবিক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা ২০১৯ সালের পর্যটন পরিসংখ্যানের কাছাকাছি।

এ বছরের পর্যটকরা ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যার অর্থ হলো প্রত্যেক পর্যটক গড়ে এক হাজার ডলারের বেশি খরচ করেছে। ২০২৪ সালে ইউরোপ ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য, যেখানে ৭৪৭ মিলিয়ন মানুষ ভ্রমণ করেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলার পরেও ইউরোপে এই পর্যটন প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছে, ১০০ মিলিয়ন মানুষ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন, যেখানে ৯৮ মিলিয়ন পর্যটক ভ্রমণ করেছে। ২০২৪ সাল ফরাসি পর্যটনের জন্য একটি ব্যতিক্রমী বছর ছিল, এবং আগামী বছরও এর ধারাবাহিকতা আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, ২০২৪ সালে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে ৩১৬ মিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে ২১৩ মিলিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যে ৯৫ মিলিয়ন এবং আফ্রিকায় ৭৪ মিলিয়ন মানুষ ভ্রমণ করেছে। তবে, অ্যান্টার্কটিকায় ভ্রমণকারীদের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এ বছর পর্যটন শিল্পের পুনরুদ্ধার এবং প্রবৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী বেশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যা ২০২৫ সালেও অব্যাহত থাকার আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের জন্য মেক্সিকোতে আশ্রয়কেন্দ্র

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার পর, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে দেশটি। এরই মধ্যে, মেক্সিকো মার্কিন সীমান্তের কাছে বিতাড়িত অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, তারা মোট ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে, যার মধ্যে ৯টি মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য এবং ৩টি বহিষ্কৃত বিদেশিদের জন্য নির্ধারিত হবে।

‘মেক্সিকো আপনাকে স্বাগত জানাবে’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় এসব আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম এই সপ্তাহে বলেন, “মেক্সিকো সরকার অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের আগে তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করবে।” তিনি আরও জানান, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র দিনের শেষের দিকে এবং বাকিগুলো সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে রান্নাঘর, বাথরুম, খাবার ঘর, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরামর্শ প্রদান করা হবে।

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের সীমান্তের ওপারে, মেক্সিকোর মাতামোরোস শহরে নৌবাহিনীর কর্মীরা একটি বিশাল খেলার মাঠে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী জলপাই-সবুজ তাঁবু স্থাপন করেছে এবং নির্বাসিতদের জন্য ধাতব কাঠামো যুক্ত তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই আশ্রয়কেন্দ্রটি প্রায় তিন হাজার লোকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হবে। শহরের মেয়র আলবার্তো গ্রানাডোস জানিয়েছেন, “আমরা প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আশ্রয় দিতে পারব।”

এছাড়া, মেক্সিকো সরকার ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছে, তারা একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করবে, যার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আটকের মুখোমুখি অভিবাসীরা সতর্কতা পাবে।

টিজুয়ানা শহরেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে আরও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, রেইনোসার মেয়র কার্লোস পেনা সতর্ক করেছেন যে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ধারণক্ষমতা সীমিত, এবং পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে।

অপরদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আরও এক হাজার ৫০০ সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অভিবাসী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

শক্তিশালী মালয়েশিয়ার অর্থনীতি, বেড়েছে রিংগিতের মূল্য

অনলাইন ডেস্ক:

মালয়েশিয়ার মুদ্রা রিংগিতের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে গত এক মাসে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। গত বুধবার রিংগিতের মান ৪ দশমিক ৪৩ রিংগিতে পৌঁছেছে, যা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ছিল। গত বৃহস্পতিবারও রিংগিত শক্তিশালী অবস্থানে ছিল।

মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিএনএম) সুদের হার তিন শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে, যা ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চালু রয়েছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে সুদের হার কমানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তারা আরও জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের বৃদ্ধির ফলে শক্তিশালী অর্থনীতি বজায় রয়েছে এবং ২০২৫ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, মালয়েশিয়ার মুদ্রার শক্তিশালী হওয়ার আরেকটি কারণ হলো ট্রাম্প প্রশাসনের চীনের ওপর শুল্ক আরোপ না করা। যদি চীনের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতো, তবে মালয়েশিয়ার মুদ্রার মান হ্রাস পেতে পারত, কারণ চীনের সঙ্গে মালয়েশিয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

 

 

রাশিয়ায় আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক:

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ায় আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। ইউক্রেইনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ায় লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠানোর কয়েক মাস পর, বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহত এবং বন্দি হওয়ার পরেও উত্তর কোরিয়া দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এক বিবৃতিতে বলেছে, “চার মাস আগে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধে সেনা পাঠানোর পর, বহু সেনা হতাহত বা বন্দি হলেও উত্তর কোরিয়া নতুন করে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তবে, বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

জেসিএস আরও জানায়, উত্তর কোরিয়া একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট এবং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে, যদিও তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত নেই।

ইউক্রেইন এবং পশ্চিমা বিশ্লেষকরা দাবি করেন, গত বছরের অক্টোবরে প্রায় ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন হয়েছিল। সেখানে ইউক্রেইনীয় সেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে অংশ নেয় তারা। কিইভের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা নিহত বা আহত হয়েছে।

এদিকে, চলতি মাসে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেইনীয় বাহিনী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে বন্দি করেছে। এটি ২০২২ সালের শরতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঘটে।

শুরুতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া সেনা মোতায়েনের খবর অস্বীকার করলেও, ২০২৩ সালের অক্টোবরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় সেনাদের উপস্থিতি অস্বীকার করেননি। একদিকে, উত্তর কোরিয়ার এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, এই ধরনের সেনা মোতায়েন বেআইনি নয়।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের জুনে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পায়, যখন পুতিন পিয়ংইয়ং সফর করেন এবং ‘পূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ সই করেন, যার মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহার করবে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে সংস্থাটিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংস্থার নিয়ম অনুসারে এক বছরের নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক। ট্রাম্প প্রশাসন সেই নিয়ম মেনেই ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি জাতিসংঘকে চিঠি পাঠায়, যা ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি কার্যকর হবে। ট্রাম্প একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর, এর মধ্যে একটি ছিল ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা।

ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে সংস্থাটি তাদের অন্যতম প্রধান আর্থিক সহায়তাকারীকে হারাবে। বর্তমানে, ডব্লিউএইচওর মোট বাজেটের প্রায় ১৮ শতাংশ অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস এবং বৈশ্বিক মহামারির মতো সংকট মোকাবিলায় সংস্থার সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতিসংঘের উপমুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে জানান, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক চিঠি আমরা পেয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী, এটি আগামী বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হবে।”

উল্লেখ্য, করোনা মহামারি চলাকালীন ২০২০ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্প প্রথমবার ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন। তবে ২০২১ সালে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প পুনরায় ডব্লিউএইচও ছাড়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিলেন।

১৭ বছরে সর্বোচ্চ সুদের হার বাড়ালো জাপান

অনলাইন ডেস্ক:

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওজে) চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো সুদের হার বৃদ্ধি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতি সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর এটি ছিল সর্বোচ্চ সুদের হার বৃদ্ধি।

বিওজে জানিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা ৮-১ ভোটে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত করেন, তবে বোর্ড সদস্য তোয়োআকি নাকামুরা এর বিপক্ষে ভোট দেন। বিওজের মতে, মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগোচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থবাজার সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা পূর্ববর্তী ১.৯ শতাংশ পূর্বাভাস থেকে বেশি। একই সময়ে, দেশটির অর্থনীতি ১.১ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুদের হার বৃদ্ধির পর জাপানি ইয়েন মার্কিন ডলারের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৫৫.৩২ ইয়েনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, দুই বছরের জাপানি সরকারি বন্ডের (জিজিবি) মুনাফা বেড়ে ০.৭০৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ।

বিওজে গভর্নর কাজুও উয়েদা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সুদের হার বৃদ্ধির গতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হবে। তবে, চীনের অর্থনৈতিক মন্দা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বছরের শেষ নাগাদ আরও ০.২৫ শতাংশ সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।

সর্বশেষ খবর

পর্তুগালের ড্রেসিংরুম নিয়ে যা বললেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ

0
অনলাইন ডেস্ক: পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চলে গেছেন, এই খবর নতুন নয়। দলের ড্রেসিংরুমে একের পর এক নাটক নিয়ে মুখ খুললেন জাতীয় দলে তার...