Sunday, October 4, 2026
30 C
Dhaka
Sunday, October 4, 2026

নিরাপত্তার জন্য ২ লাখ শান্তিরক্ষী বাহিনী চাইলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক:

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে ভবিষ্যতে রুশ হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনীর অন্তত ২ লাখ সদস্য মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, এই সংখ্যার কম হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বক্তৃতায় ইউরোপীয় নেতাদের মহাদেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জেলেনস্কি। বক্তৃতার পর এক সাক্ষাৎকারে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “পূর্ব ইউরোপে শান্তিরক্ষা মিশন কার্যকর করার জন্য ইউরোপের সব দেশ থেকে অন্তত ২ লাখ সদস্য প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “যদি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা কম হয়, তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।” রুশ সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ, আর ইউক্রেনের সেনা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা তার অর্ধেকেরও কম, যা ভবিষ্যতে রুশ হামলা প্রতিহত করতে পর্যাপ্ত নয়।

জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “তাড়াতাড়ি কোনো যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেনের জন্য তা বিপদজনক হতে পারে,” এবং তিনি বলেন, কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্ররা রুশ হামলা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদ্ধতির আলোচনা করছে।

 

 

তুরস্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, একদিনের শোক ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক:

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় হোটেলের মালিকসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারলিকায়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিহত ৪৫ জনের মরদেহ তাদের পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকিদের সনাক্তকরণের জন্য ফরেনসিক ইনস্টিটিউটে ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় ভোররাতে, বলু পর্বতমালার কার্তালকায়া স্কি রিসোর্টের গ্র্যান্ড কার্টাল হোটেলে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলটিতে ২৩৪ জন অতিথি ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধোঁয়ায় ভরা করিডোর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তারা, কিছু লোক জানালা থেকে লাফিয়ে পড়ে জীবন বাঁচান। তবে, ঘটনার সময় হোটেলে কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বাজানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ঘটনার পর একদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারলিকায়া বলেন, “আমরা এই ঘটনার সব দিক নিয়ে তদন্ত করছি এবং গভীরভাবে মর্মাহত।”

 

 

গাজায় ৩ দিনে প্রবেশ করেছে আড়াই হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক

অনলাইন ডেস্ক:

গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গত তিন দিনে প্রায় আড়াই হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে ৯০০টি ট্রাক গত মঙ্গলবার গাজায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ১৫ মাসের যুদ্ধের ফলে গাজার বাসিন্দারা ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছিলেন, তবে যুদ্ধবিরতির পরে ত্রাণ প্রবাহের এই আয়োজন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ৩ দিনে মোট ২,৪৪২টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তির আওতায়, প্রথম ছয় সপ্তাহে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০টি ট্রাক গাজায় ত্রাণ সরবরাহ করবে, যাতে ৫০টি জ্বালানি বহনকারী ট্রাকও থাকবে। বিশেষজ্ঞরা গাজার উত্তরে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং সেখানকার মানুষদের জন্য আরও বেশি ত্রাণ প্রেরণের তাগিদ দিয়েছেন।

জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় সাহায্য কর্মকর্তা মুহান্নাদ হাদি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণে বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হয়নি। কিছু ছোটখাটো লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও, এগুলো সংঘবদ্ধ অপরাধ নয়, তিনি বলেছিলেন, “কিছু শিশু খাবারের ঝুড়ি নিতে ট্রাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং কিছু লোক পানির বোতল নিতে চেষ্টা করেছিল।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, গাজার মানুষ দ্রুত বুঝতে পারবে যে পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ রয়েছে এবং এই সমস্যা কিছুদিনের মধ্যে সমাধান হবে।

গাজার ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনে প্রায় ২২ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন, যেখানে বেকারত্ব উচ্চ এবং এক তৃতীয়াংশ জনগণ জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়ে, যার ফলে খাদ্য, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে প্রায় অর্ধলাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

অতিরিক্ত ত্রাণ সহায়তা এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে গাজায় খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, পানির লাইন মেরামত এবং আশ্রয়কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। আশা করা হচ্ছে, গাজার মানুষের জন্য এই ত্রাণ সহায়তা পরিস্থিতি কিছুটা সহজ করবে।

 

 

কুম্ভমেলায় দুর্ঘটনা এড়াতে এআই ব্যবহার

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের কুম্ভমেলায় এবার দুর্ঘটনা এড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ৪০ কোটি মানুষের জমায়েত নিরাপদভাবে পরিচালনা করতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। কুম্ভমেলার আয়োজকরা আশা করছেন, গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর মোহনায় অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক মেলায় ৪০ কোটি মানুষের উপস্থিতি থাকবে। মেলা শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ আগে এবং পরবর্তী ছয় সপ্তাহ ধরে চলবে।

এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মেলা চত্বরে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। গত রোববার, মেলাস্থলে আগুন লেগে একের পর এক তাঁবুতে আগুন ছড়িয়ে পড়লেও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মাত্র ২২ মিনিটেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এর আগে, ২০১৩ সালে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে (এলাহাবাদ) পদদলিত হয়ে ৩৬ জন নিহত হয়েছিল। ১৯৫৪ সালে একদিনে পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে কিংবা পানিতে ডুবে ৪০০ মানুষ প্রাণ হারায়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে এবারের কুম্ভমেলায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুম্ভমেলায় টেক অপারেশন প্রধান, সিনিয়র পুলিশ অফিসার অমিত কুমার জানান, এবারে তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেলামুখী স্রোত ও জমায়েতের ঘনত্ব নির্ণয় করতে পারছেন। মেলা চত্বরে ৩০০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ড্রোনগুলো পুণ্যার্থীদের ওপর নজরদারি করছে। এছাড়া, নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পুলিশ অফিসারদের পাশাপাশি টেকনিশিয়ানরা থাকছেন, যারা পুরো মেলা প্রাঙ্গণ মনিটর করছেন।

অমিত কুমার আরও জানান, ক্যামেরাগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য একটি এআই অ্যালগোরিদমে প্রক্রিয়া করা হবে, যার মাধ্যমে জমায়েতের সার্বিক চিত্র এবং বিভিন্ন অংশের ঘনত্ব চিহ্নিত করা যাবে। যখনই কোনো স্রোত বা জটলা ঝুঁকি সৃষ্টি করবে, তখন সিস্টেমে সতর্কতা সংকেত তৈরি হবে, যা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কুম্ভমেলায় দুর্ঘটনা রোধে সহায়তা পাওয়া যাবে এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

স্টারগেট প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ওপেন এআই

অনলাইন ডেস্ক:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রযুক্তির বিকাশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ঘোষণা করেছে ওপেন এআই, ওরাকল এবং সফটব্যাংক। এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে “স্টারগেট” নামক একটি যৌথ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার জন্য প্রথমে ১০ হাজার কোটি ডলার এবং পরবর্তী চার বছরে মোট ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ডাটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা এবং উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। ওপেন এআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, “এটি বর্তমান যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হতে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে, এই তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প এই প্রকল্পটিকে আমেরিকার সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতার প্রতি দৃঢ় আস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, ডাটা সেন্টারের মতো অবকাঠামো স্থাপন করলে অন্তত এক লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। বর্তমানে, ওরাকলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রথম দফায় টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে কয়েকটি ডাটা সেন্টার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক স্থানে অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, ওপেন এআই ও সফটব্যাংক যৌথভাবে জানায়, মাইক্রোসফট, এআরএম এবং এনভিডিয়া তাদের প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। ২০২২ সালে চ্যাট জিপিটি বট উন্মুক্ত করার মাধ্যমে ওপেন এআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, এবং এখন এই নতুন বিনিয়োগ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে সহায়ক হবে।

 

 

ব্রিটেনের কাছ থেকে ঔপনিবেশিক ভারতের পাওনা ৫২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড

অনলাইন ডেস্ক:

অক্সফামের নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটেন ঔপনিবেশিক শাসনের সময় অখ- ভারত থেকে ৫২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ লুট করেছে। এটি প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার পক্ষ থেকে ঔপনিবেশিক ইতিহাসের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপন করেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রতি বছর অন্তত ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত, যা ধনী ব্যক্তি এবং বৃহৎ কর্পোরেশনগুলোর ওপর কর বৃদ্ধি করে সংগ্রহ করা যেতে পারে।

অক্সফামের প্রতিবেদনে ভারতের অর্থনীতিবিদ উৎসা পটনায়েক ও প্রভাত পটনায়েকের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ব্রিটেনের কাছ থেকে লুট করা সম্পদের পরিমাণ ৫২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড হিসাব করা হয়েছে। তারা ২০১৮ সালে দাবি করেছিলেন, ১৭৬৫ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে ব্রিটেন ভারতের কাছ থেকে প্রায় ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ লুট করেছে। অক্সফাম তাদের প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করে এবং ৬৪.৮২ ট্রিলিয়ন ডলার হিসাব করেছে।

অক্সফামের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “ঔপনিবেশিক ইতিহাসের প্রভাব বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বৈষম্যের মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি, যা দূর না করলে সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্য একটি আরও ন্যায়সংগত বিশ্ব গড়ার দিকে নির্দেশিত।”

এদিকে, ব্রিটেনের রাজতন্ত্রের চর্চা অনুযায়ী, ভারতবর্ষ থেকে কোহিনুর হীরাটি ফেরত নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর। তবে শুধু ভারতই নয়, বিশ্বজুড়ে ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসনকালে লুট করা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবিও উঠছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীর বিস্তৃত অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছিল, এবং এই সাম্রাজ্যের অধীনে বহু মূল্যবান সম্পদ লুটের অভিযোগ রয়েছে।

ব্রিটিশ জাদুঘরে থাকা ৮০ লাখেরও বেশি নিদর্শনের মধ্যে বেশিরভাগই পাচার করা সামগ্রী, এবং ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে ৯টি প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক নিদর্শন চুরির অভিযোগ রয়েছে।

অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজের কিছু শিক্ষাবিদ এই প্রতিবেদনটির পদ্ধতিগত বিশ্লেষণকে সমালোচনা করেছেন। অক্সফোর্ডের সেন্ট পিটার্স কলেজের অধ্যাপক লরেন্স গোল্ডম্যান বলেছেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, একটি খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্রিটেনের অবদানও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত, কিন্তু ইতিহাসকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অমূলক।”

ক্যামব্রিজের সেন্ট জনস কলেজের অধ্যাপক রবার্ট টুমস বলেছেন, “৫২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড ঋণের এই হিসাব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” তার মতে, “এ ধরনের অমূলক অভিযোগ অক্সফামের প্রতিবেদনটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা ও হাসপাতাল থেকে অভিবাসীদের গ্রেফতারের অনুমতি

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে ‘সংবেদনশীল স্থাপনা’—যেমন গির্জা, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অভিবাসীদের গ্রেফতারের ওপর সব বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত মঙ্গলবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে এসব স্থান থেকেও অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা যাবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান বেনজামিন হাফম্যান দুটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন। প্রথমটি সংবেদনশীল স্থাপনা থেকে গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়ে এবং দ্বিতীয়টি হলো, বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা। নতুন নীতির অধীনে, যদি কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে দু’বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করেন, তবে তাকে দ্রুত বহিষ্কার করা যাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এসব স্থানে গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এর মতো সংস্থাগুলোর জন্য এই বিধিনিষেধ আর থাকছে না।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপের কারণে অভিবাসীদের পরিবার এবং তাদের সন্তানরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ‘দ্য সেন্টার ফর ল অ্যান্ড সোশ্যাল পলিসি’ নামে একটি আইন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই নীতির বাস্তবায়ন হলে অভিবাসীরা স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ সহায়তা, স্কুলে যাওয়া এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী নির্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে আটকের জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাঠে নামানোর অঙ্গীকার করেছে।

 

 

চীনে শেয়ারবাজারে পতন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে বিবেচনা করছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণার পর চীনা শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। চীনের মূল ভূখ-ের সিএসআই ৩০০ সূচকে দিনের শুরুতেই ১ শতাংশের বেশি পতন হয় এবং দিনের শেষে সূচকটি ০.৯ শতাংশ কমে স্থির হয়।

এছাড়া, হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও গত ছয় দিনের টানা বৃদ্ধি পর ১ দশমিক ৬ শতাংশ পতন দেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য চীনের প্রতি তার কঠোর নীতির ফিরিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়, যদিও শুল্ক আরোপের সময় বা ক্ষেত্র সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

ট্রাম্প তার দায়িত্বগ্রহণের দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, তার প্রশাসন চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে আলোচনা করছে। তিনি চীনকে মেক্সিকো ও কানাডায় ফেন্টানাইল পাঠানোর অভিযোগও তোলেন, যা চীন পূর্বে অস্বীকার করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অন্যতম কঠোর দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, “শুল্ক বা বাণিজ্য যুদ্ধের কেউ বিজয়ী হয় না।” তিনি আরও যোগ করেন, চীন তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প চীনের ওপর ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার অনিশ্চিত নীতি ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতাকে নির্দেশ করে। আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং ফেলো স্টিফেন ওলসন মনে করেন, চীনের ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এর মাত্রা বা সময়সীমা নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

চীনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুল্ক আরোপের পর চীনও এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।

 

 

বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের চতুর্থ কিস্তি মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে আইএমএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সময়সূচির পরিবর্তন করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে দেওয়া ৪৭০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা ঋণের চতুর্থ কিস্তি ছাড় মার্চ মাস পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ৫ ফেব্রুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের সভায় আলোচনার জন্য নির্ধারিত ছিল, তবে বৈঠকটি স্থগিত করে নতুন তারিখ ১২ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে আইএমএফের মাসব্যাপী কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে।

আইএমএফ ঋণ ছাড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি শর্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো মার্কিন ডলার বিনিময় হারের সহজীকরণ, যা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমান বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করছে। আরও একটি বিতর্কিত বিষয় হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

আইএমএফ কর্মকর্তারা এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এনবিআরের একটি সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

আগের তিনটি কিস্তির পর, চতুর্থ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ পাবে।

এদিকে, বাংলাদেশ ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্যাকেজে আরও ৭৫ কোটি ডলার বৃদ্ধির অনুরোধ করেছে। আইএমএফ এই অনুরোধে রাজি হলেও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং নীতি নির্ধারণী কর আদায়কে পৃথক করার মতো কাঠামোগত পরিবর্তনসহ কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

কুমিল্লায় নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০১৫ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। সোমবার (২১ জানুয়ারি) কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক আফরোজা জেসমিন এই সিদ্ধান্ত দেন, তবে বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

কুমিল্লার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কায়মুল হক রিংকু জানান, ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি হরতাল চলাকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হায়দারপুলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি কাভার্ডভ্যান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় নাশকতার মামলা করা হয়। এই মামলায় খালেদা জিয়া সহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়, যেখানে তিনি ছিলেন ৩২ নম্বর আসামি।

তিনি আরো জানান, এই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং রাজনৈতিক কারণে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, যা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, এজাহারে ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও অভিযোগপত্রে ৪২ জনের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে ৩৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬ জনের বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নেওয়ায় তাদের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর

মাঝরাতে অভিনেত্রীর বাড়িতে মদ্যপ পরিচালক, এরপর ঘটল চাঞ্চল্যকর কাণ্ড!

0
অনলাইন ডেস্ক: বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এক পরিচালকের কাছ থেকে অস্বস্তিকর ও আতঙ্কের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। মাতাল অবস্থায় মাঝরাতে তার কক্ষের দরজায়...