Saturday, September 26, 2026
27 C
Dhaka
Saturday, September 26, 2026

একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ

ফাইল ছবি

মোঃ সাকিক হারুন ভূঁইয়া :

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন করে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এবার রাজধানীর সমস্ত বাস একক কোম্পানির আওতায় নির্দিষ্ট রুট ধরে চলবে। একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরিবহন মালিকদের সহায়তায় এই উদ্যোগ সফল করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর পরামর্শ দেয়া হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র এই উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ নেন। ২০১৮ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি গঠন করা হয়, যার অধীনে ৪২টি রুটের জন্য ২২টি বাস কোম্পানির আওতায় বাস চালানোর প্রস্তাব দেয়া হয়।

২০২১ সালে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ নামে তিনটি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০টি বাস চলাচল শুরু করলেও, একই রুটে অন্যান্য কোম্পানির বাস চলতে থাকার কারণে কিছুদিন পর সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তবে, চলতি বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২৯তম সভায় নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এখন ঢাকার ৪২টি রুটের বাস কোম্পানিগুলো একক একটি কোম্পানির আওতায় পরিচালিত হবে এবং সেগুলোর নাম হবে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’।

এই উদ্যোগে ১৭০টি বাস কোম্পানি আবেদন করেছে, এবং তাদের যাচাই-বাছাই চলছে। যারা শর্ত পূরণ করবে, তারা ঢাকার নগর পরিবহনের আওতায় আসবে। এর পাশাপাশি, রুট পুনর্বিন্যাস এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাস মালিকদের সহায়তা এবং বাস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, গত ১৫ বছর ধরে সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, তবে এখন মালিকরা চান সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক এবং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাক।

এদিকে, বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের পরিচালক ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, ঢাকায় বর্তমানে ৩৮৮টি রুট রয়েছে, যেগুলোকে সমন্বয় করে ৪০ থেকে ৪৫টি রুটে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা আধুনিক এবং শৃঙ্খলিত হবে, যা নাগরিকদের জন্য একটি সুস্থ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

সাভার ও আশুলিয়ায় এক রাতে তিন সড়কে ডাকাতির ঘটনায় আহত ২০

জেলা প্রতিনিধি :

সাভার ও আশুলিয়ায় গত শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার পর একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে ৪ জনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে সাভারের রেডিও কলোনি থেকে সিএনবি পর্যন্ত ঢাকা আরিচা মহাসড়কে, যেখানে ওয়েলকাম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি চালায় একদল ডাকাত। ডাকাতরা বাসে ওঠার পর যাত্রীদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে এবং চারজনকে কুপিয়ে আহত করে। পরে তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন মহাসড়কে নেমে যায়।

অন্য এক ঘটনায় সাভারের চাঁপাইন এলাকায় এক যুবক জনসম্মুখে চারজনকে ছুরিকাঘাতে আহত করে। পুলিশ ওই যুবককে আটক করেছে।

আশুলিয়ার বঙ্গবন্ধু রোডের পলমল গার্মেন্টসের কাছে একটি বিয়ে বাড়ির মিনি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ থেকে আসা বাসটি আশুলিয়ার সদরপুর এলাকায় পৌঁছালে রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতরা বাসটি আটকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে কাঠগড়া-টঙ্গাবাড়ি আঞ্চলিক সড়কের দুর্গাপুর এলাকায়। সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকার মিরপুর যাওয়ার পথে একটি প্রাইভেটকারে ডাকাতরা হামলা চালায়। তারা গাড়ির কাঁচ ভেঙে এক লাখ ১৩ হাজার টাকা, একটি আইফোন এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন লুট করে। ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।

আহতদের সবাইকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে,” এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর বলেন, “ডাকাতদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।”

নতুন বছরে সিনেমা আর গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া

অনলাইন ডেস্ক:

জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে নতুন সিনেমার খবর শেয়ার না করলেও, ফেসবুকে তার ছবি ও পোস্ট ভক্তদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার ফারিয়া যে ছবি পোস্ট করেছেন তা বিদেশি আমেজে ভরা ছিল, এবং তার ওয়েস্টার্ন পোশাক শীতের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে নেট দুনিয়ায়। ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “এলোমেলো চুল, চকচকে চাহুনি- সবমিলিয়ে আমি জানি, আমি দুর্দান্ত।”

নতুন বছর উপলক্ষে নুসরাত ফারিয়া নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে তার নতুন সিনেমার ঘোষণা শিগগিরই আসবে। সিনেমাটি একটি বড় ক্যানভাসের ছবি হবে এবং এর গল্পে তাকে আগে কখনো দেখা যায়নি। ফারিয়া বলেন, “বহু দিন পর আমি চমৎকার একটি গল্পের কাজ করতে যাচ্ছি, যা আমার দর্শকরা অনেক দিন পর দেখতে পাবেন।”

এছাড়া, ফুয়াদ আল মুক্তাদির মুজা এবং মমির সঙ্গে তার তিনটি নতুন গান মুক্তি পাবে নতুন বছরে। কাজের পাশাপাশি তিনি পড়ালেখায় মন দিতে চান এবং এল.এল.এম পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফারিয়া নতুন বছরে তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চান। তিনি বলেন, “চলতি বছর ভালো-মন্দ মিলিয়ে কেটেছে, তবে নতুন বছরে ইতিবাচক বাংলাদেশ দেখতে চাই। বিগত বছরের সব অশুভকে পেছনে ফেলে, জীবনকে সবাই নতুনভাবে রাঙাবেন, এটাই প্রত্যাশা।”

এছাড়া, তিনি নিজের জন্যও ভালো কিছু প্রত্যাশা করছেন এবং আশা করছেন নতুন বছরে নতুন চমক জানাতে পারবেন।

উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ফারুকী

অনলাইন ডেস্ক:

গত শুক্রবার, দুপুর ৩টার পর রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অন্তর্বতী সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ মারা গেছেন।। হাসপাতালের মিডিয়া ম্যানেজার চৌধুরী মেহের এ খোদা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ অসুস্থ ছিলেন। তাকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

এদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সহকর্মী মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আরিফ হাসানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন এবং অল্প সময়ের পরিচয়ের স্মৃতিচারণ করেছেন। স্ট্যাটাসে ফারুকী লিখেছেন, “হাসান আরিফ ভাইয়ের আকস্মিক প্রয়াণে শোকাহত। আমাদের পরিচয় ছিল খুব অল্প সময়ের, তবে তার হাসিমুখ এবং ক্যাবিনেট মিটিংয়ের আগে-পরে তার সাথে আলাপ-আলোচনা এখনও মনে পড়ে।”

ফারুকী আরও বলেন, “এবারের বিজয় দিবসে আমরা একসাথে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম। একসময় আমি ক্লান্ত হয়ে দেয়ালে বসলেও তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমরা সেসময় কিছুটা হাস্যরসও করেছিলাম। আপনার হাসিমুখটাই আমার মনে থাকবে, আরিফ ভাই।”

উল্লেখযোগ্য, শোকসন্তপ্ত এই সময়ের মধ্যে, হাসান আরিফের কাছের মানুষগুলো তার স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

‘মির্জাপুর’ সিরিজের সাফল্য এবং ওটিটি ইন্ডাস্ট্রির নতুন বাস্তবতায় শ্বেতা ত্রিপাঠি

অনলাইন ডেস্ক:

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়া শ্বেতা ত্রিপাঠি এখন শীর্ষ তারকাদের তালিকায়। তার অভিনীত সিরিজ মির্জাপুর সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর পর, বর্তমানে ইয়ে কালি কালি আঁখে সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুমেও দুর্দান্ত সাড়া পাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি, একটি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে নিজের কাজ ও ওটিটি ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

শ্বেতা ত্রিপাঠি বলেন, মির্জাপুর সিরিজের সাফল্য এবং ইয়ে কালি কালি আঁখে মৌসুম ২-এর সাফল্য তাঁকে অত্যন্ত উৎসাহিত করেছে। “আমি যেখানেই যেতাম, সবাই জানতে চাইত, ‘ইয়ে কালি কালি আঁখে ২’ কবে আসবে?” – শ্বেতা বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা প্রচুর পরিশ্রম করেছি, আর তার ফলও পাচ্ছি। দর্শকদের কাছ থেকে যে প্রশংসা পাচ্ছি, সেটা অনেক বড় প্রাপ্তি।”

শ্বেতা জানালেন, প্রথম মৌসুম থেকে দ্বিতীয় মৌসুমে শিখা চরিত্রে ফিরে আসার জন্য তিনি আগের মৌসুমটি আবারও দেখেছিলেন। “আমার অভিনীত চরিত্রের শারীরিক ভাষা ও কণ্ঠস্বর ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য আমি আগের কিস্তি দেখতে পছন্দ করি,” – বলেন তিনি। তিনি জানান, নতুন মৌসুমে আগের ভুলগুলো সংশোধন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং শ্বেতাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি প্রতিযোগিতা পছন্দ করেন? এ বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আমি প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নই, তবে মাঝে মাঝে হিংসা হয়। অন্য কারও অভিনীত চরিত্র দেখে মনে হয়, আমি যদি ওই চরিত্রে অভিনয় করতে পারতাম!” তিনি উল্লেখ করেন, “পুরুষ অভিনেতাদের চরিত্রগুলো দেখে বেশি হিংসা হয়। যেমন, ইয়ে কালি কালি আঁখে-এ তাহির (রাজ ভাসিন) যেভাবে চরিত্রে অভিনয় করেছে, আমি চাইব এমন চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেলে।”

বর্তমান প্রজন্মের মনোযোগ ও ধৈর্য কমে যাওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “মানুষ এখন সহজে এক স্ক্রিন থেকে অন্য স্ক্রিনে চলে যায়। এখন আর কেউ কোন কিছুতে মনোযোগ দিতে পারে না,” – বলেন শ্বেতা।

সাফল্যের বিষয়ে তার চিন্তা কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেন, “আজকাল সমাজই সফলতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয়। সফলতা মানে শুধু দামি পোশাক, গাড়ি বা বাড়ি, কিন্তু এগুলোর বাইরে আমরা নিজেদের পরিচয় ভুলে যাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, নিজের প্রতিভাকে আরও উন্নত করা এবং যে কোনো চরিত্রে মনপ্রাণ ঢেলে অভিনয় করা।”

শ্বেতা ত্রিপাঠি জানান, তার অভিনীত মির্জাপুর এবার সিনেমা হিসেবে আসছে এবং সেখানে আগের চরিত্রগুলোর বেশিরভাগই ফিরছে।

আসছে নতুন ছবিতে ঋত্বিক-সোহিনী

অনলাইন ডেস্ক:

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে টালিউড পরিচালক প্রতিম ডি গুপ্তর নতুন ছবির শুটিং। ছবিটি মূলত একটি বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হচ্ছে, যেখানে এক নারীর আগমনই ঘটাবে সব ধরনের ঘটনাপ্রবাহ। ছবিতে বাবার চরিত্রে থাকবেন জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। প্রতিম ডি গুপ্তর ছবিতে সাধারণত সম্পর্কগুলো ব্যতিক্রমী আলোয় ফুটে ওঠে, সরলরেখায় নয়—এবারও সেই সূক্ষ্মতা ছবিটিতে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, পরিচালক প্রতিম এখন ব্যস্ত রয়েছেন তার ছবি চালচিত্র নিয়ে, যা গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে। ঋত্বিক ও সোহিনী সরকারের অভিনয়জীবনের নানা দিকও এই ছবির মাধ্যমে আরো সমৃদ্ধ হবে। এই দুই তারকাকে একসঙ্গে প্রথম দেখা গিয়েছিল ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী পরিচালিত ফড়িং সিনেমায়, তবে তাদের প্রথম জুটি ছিল ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মৈনাক ভৌমিক পরিচালিত বিবাহ ডায়েরিজ সিনেমায়। সেখানে তাদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, কিন্তু টালিউডে এই জুটির নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি।

তবে, তাদের দুজনের অভিনয় দক্ষতা ও ক্যামেরার সামনে সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এবার দীর্ঘ দিন পর আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে ঋত্বিক এবং সোহিনীকে, এবং এটি তাদের একসঙ্গে করা পঞ্চম ছবি হবে। উল্লেখযোগ্য, ২০১৯ সালে ঋত্বিক ও রুদ্রনীল এর ভিঞ্চি দা ছবিতে সোহিনী একটি ছোট চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন। ২০২২ সালে, অভিনন্দন দত্ত পরিচালিত অনন্ত ছবিতে পুরো সিনেমাজুড়ে তাদের উপস্থিতি ছিল, তবে তাদের স্ক্রিন শেয়ার তেমন ছিল না।

এছাড়াও, ঋত্বিক চক্রবর্তী এর আগে প্রতিম ডি গুপ্তর চারটি ছবিতে কাজ করেছেন—সাহেব বিবি গোলাম, মাছের ঝোল, আহারে মন এবং শান্তিলাল ও প্রজাপতি রহস্য। তবে সোহিনী সরকারের সঙ্গে প্রতিমের এটি হবে প্রথম সহযোগিতা। সবকিছু ঠিক থাকলে, ছবির শুটিং শুরু হবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

অপূর্বের সিনেমা প্রিমিয়ারে না থাকার খবর মিথ্যা

অনলাইন ডেস্ক:

আনন্দবাজার প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার তারকাদের প্রায়ই হুমকির মুখে পড়ছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি, অভিনেতা অপূর্ব তার প্রথম সিনেমার প্রিমিয়ারের সময় উপস্থিত না থাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অপূর্ব। তিনি জানিয়েছেন, “আমি শুটিং করছি এবং শুটিংয়ের পূর্ব নির্ধারিত সিডিউলের কারণে সিনেমাটির প্রিমিয়ারে উপস্থিত হতে পারিনি, তবে আমি চাইলে সেখানে থাকতে পারতাম।”

অপূর্ব আরও বলেন, “এখনও শুটিং স্পট থেকে কথা বলছি। আমার সঙ্গে সিনেমার প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে কোন যোগাযোগ হয়নি এবং তাদের নিউজে আমার কোনো বক্তব্যও নেই।” তিনি ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত হুমকির খবরকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, এমন ঘটনা এর আগে ভারতের গণমাধ্যমেও ঘটেছে। ভারতের সংবাদ মাধ্যম যেমন হিন্দুস্তান টাইমস, সংবাদ প্রতিদিন, নিউজ১৮সহ আরও বেশ কিছু পত্রিকার অনলাইন বাংলা সংস্করণে খবর ছড়িয়েছিল যে, চঞ্চল চৌধুরীকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। সেই খবরও মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তবে চঞ্চল চৌধুরী সেই খবরকে ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের খবরের কোনো সত্যতা নেই, আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।”

এবার কলকাতার সংবাদমাধ্যমেও অপূর্বকে নিয়ে মিথ্যাচারের ঘটনাটি সামনে আসলো, যা আবারো তাকে বিভ্রান্ত করেছে।

নতুন নাটকে যৌনকর্মীর চরিত্রে অহনা

অনলাইন ডেস্ক:

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী অহনা রহমান, যিনি মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি টেলিভিশন নাটকে কাজ করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তবে বর্তমানে টিভি নাটকে তাকে তেমন দেখা যায় না, বরং বিশেষ দিবসের নাটকগুলোর মাধ্যমে তার উপস্থিতি পাওয়া যায়। সম্প্রতি অহনা নতুন একটি নাটকের কাজ শুরু করেছেন, যেখানে তিনি যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। নাটকটির নাম ‘বন্দি’, যা ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পাবে।

নাটকটির বিষয়ে অহনা রহমান বলেন, “আমি এমন কিছু নাটকে কাজ করতে চাই, যা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং কিছু মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। ‘বন্দি’ একটি ভিন্ন ধরনের গল্প। এটি লাভ স্টোরি, সেড স্টোরি এবং অতিরিক্ত সন্দেহের প্রভাব তুলে ধরে। গল্পে একজন মানুষ যখন অন্যের কাছে আশ্রয়ের জন্য যায়, কিন্তু সেই আশ্রয়টিই দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন তার জীবন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটি দেখানো হয়েছে। এই নাটকটি একটি সামাজিক বার্তা দেয়।”

নাটকটিতে অহনার সঙ্গে অভিনয় করছেন সম্ভাবনাময়ী অভিনেতা আবু হুয়ায়রা তানভীর। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অহনা বলেন, “আমি সবসময় এমন সহশিল্পী চাই, যার অভিনয় ভালো। তানভীর এখন দারুণ অভিনয় করছে। এটি আমাদের প্রথম কাজ, এবং তার অভিনয় সত্যিই প্রশংসনীয়।”

নাটকটি নির্মাণ করেছেন জিয়া উদ্দিন, এবং রচনা করেছেন আসাদুজ্জামান সোহাগ। চিত্রগ্রহণ করেছেন সাখাওয়াত হোসাইন সাকিব। নাটকে অহনা, তানভীর ছাড়াও অভিনয় করেছেন বাসার বাপ্পী, সাবিনা রনি, মেঘদূত বিপ্লব, রিয়াদ তালুকদারসহ আরও অনেকে। ভালোবাসা দিবসে মিনারা ফিল্মের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি মুক্তি পাবে।

দেশপ্রেমী ও সৎ হাসান আরিফকে কখনোই ভোলা সম্ভব নয়

‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক এটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমী। তাকে কখনোই ভোলা সম্ভব নয়।’

আজ শনিবার বেলা ১১টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ এফ হাসান আরিফের দ্বিতীয় জানাজায় অংশ গ্রহণ শেষে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন। এ সময়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন গণমাধ্যমকে বলেন, হাসান আরিফকে সবাই শ্রদ্ধা করতো। তিনি একটি বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন পার করেছেন। তার সততা সম্পর্কে কেউ কোনোদিন প্রশ্ন তুলতে পারবেনা।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া আমাকে এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগের জন্য একজন ভালো আইনজীবী খুঁজে নিয়ে আসতে বলেন। আমি তখন হাসান আরিফকে নিয়ে তার কাছে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তিনি এটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন ও দীর্ঘদিন দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি এই অঙ্গনে একজন ভালো আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে দেশের ও আইন অঙ্গনের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এমন খুব কম মানুষই আছেন, যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার- এই দুই সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসান আরিফ অত্যন্ত বিদগ্ধ, সৎ ও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি আইন ও বিচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনি ভূমিকা রেখেছেন।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে হারিয়ে ভারাক্রান্ত প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী ও ভালো বন্ধুকে আমরা হারিয়েছি। তাকে হারানোর ফলে সুপ্রিম কোর্ট বারে একটি শূন্যতা সৃষ্টি হলো। দেশের প্রতি দরদ নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিলো। হাসান আরিফ দেশের জন্য ভাবতেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতেন। এমন দেশ-পাগল কিন্তু প্রচারবিমুখ মানুষ আমাদের মধ্যে অনেক কমই আছেন। তার মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্ট ও গোটা বাংলাদেশ একজন অভিভাবককে হারালো।

তাজুল ইসলাম বলেন, তার অনুজ, অগ্রজ ও সহকর্মীদের কাছে হাসান আরিফ ছিলেন কর্মঠ, নীতিবান আইনজীবী এবং শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ।

বিদায় বেলায় বিষাদগ্রস্থ চিত্তে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানিয়ে তার বর্ণিল কর্মজীবনকে নিজেদের মনের ভেতরে চিরস্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস ব্যক্ত করেন জানাজায় উপস্থিত হওয়া বিশিষ্টজনেরা।

—–বাসস

বিগত সরকারের কথিত উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল : তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিগত সরকারের কথিত উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ওই আন্দোলনের মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাথায় নিরাপদ সড়কের বিষয়টি গেঁথে গিয়েছে।

আজ শনিবার প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার বিষয়ক জাতীয় সংলাপে তিনি একথা বলেন।

সড়ক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবহন খাতে রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, যেসব কাঠামোগত উন্নয়ন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সেসব উন্নয়ন অর্থহীন। তাই, আমাদের মৌলিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনাকে কাঠামোগত হত্যাকান্ড হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা অনেকাংশে দায়ী।

পরিবহন খাতে বহুমুখী সমস্যার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।

এ সময়ে তথ্য উপদেষ্টা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যের বরাত দিয়ে সংলাপে জানানো হয়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭ হাজার মানুষ নিহত ও ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সংলাপে আরও জানানো হয়, গণপরিবহন ৫৩ শতাংশ যাত্রী বহন করে, আর ব্যক্তিগত যানবাহন ১১ শতাংশ যাত্রী বহন করে। অথচ ব্যক্তিগত যানবাহন ৭০ শতাংশ সড়ক দখল করে চলে। ৩০ শতাংশের কম জায়গায় চলে গণপরিবহন। এটি সাধারণ মানুষের প্রতি চরম বৈষম্য।

সংলাপের শুরুতে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি আব্দুলাহ এম ফেরদৌস খান।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

—–বাসস

সর্বশেষ খবর

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে

0
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের পাঁচ...