আন্তর্জাতিক চাপে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে অনুমতি ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক:

গাজায় অনাহারে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শনিবার (২৬ জুলাই) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, মানবিক করিডর পুনরায় চালুর পাশাপাশি আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ (এয়ারড্রপ) কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে।

মিসরের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন আল কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, রাফাহ সীমান্ত হয়ে শত শত টন ত্রাণবাহী ট্রাক গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এসব ত্রাণ পৌঁছাবে গাজার দক্ষিণে কারাম আবু সালেম (কেরেম শালোম) ক্রসিং দিয়ে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে দেইর আল-বালাহ, মুওয়াসি ও গাজা শহরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করা হবে—যদিও বর্তমানে এসব এলাকায় সক্রিয় সামরিক অভিযান নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘প্রতীকী’ ও ‘অপর্যাপ্ত’ বলছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা বলছে, দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চলে স্থলপথেই পূর্ণমাত্রার ও টেকসই ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি জরুরি।

এদিকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় গাজায় এয়ারড্রপের মাধ্যমে পাঠানো ত্রাণে থাকছে ময়দা, চিনি এবং টিনজাত খাদ্য। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্র সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং সেটিকে ইসরায়েলি বিদ্যুৎ সংযোগেও যুক্ত করবে।

এখন পর্যন্ত গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১২৭ জন, যার মধ্যে রয়েছে ৮৫ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন, যার মধ্যে দুজন শিশু, অনাহারে মারা গেছে বলে জানিয়েছে আল-শিফা হাসপাতাল।

এদিকে ফ্রান্সের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য এমা ফোরো জানান, গাজামুখী হানদালা মিশনের ত্রাণবাহী জাহাজ ইসরায়েলি বাহিনীর নজরদারিতে পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে তারা নিজেদের মোবাইল ফোন সাগরে নিক্ষেপ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির ত্রাণ প্রবেশের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘হামাসের কাছে আত্মসমর্পণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, মার্চ থেকে গাজায় জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার ত্রাণ নিষিদ্ধ করেছিল ইসরায়েল। পরে ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ গঠন করলেও সেটির সহায়তা ছিল খুবই সীমিত।