ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে কি আবারও হামলা চালাবেন ট্রাম্প?

প্রকাশিত: 8 November 2026, 6:08 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যে চরম দোলাচল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে তিনি ইরানকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কঠোর হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার আলোচনার টেবিলে বসে চলমান সংকট সমাধানের মৃদু ইঙ্গিতও দিচ্ছেন। ফলে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থামানো কিংবা তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে দিন কাটাচ্ছেন।

এরই মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিজেদের বিমান ও নৌ বহরের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করে জানানো হয়েছে যে, তারা কেশম দ্বীপের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একটি মার্কিন ড্রোন সফলভাবে গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন তীব্র আশঙ্কায় ইরান তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকদের মাঝে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী বিশেষ আইোডিন ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশেষ করে বুশেহর এবং পিকঅ্যাক্স পর্বতের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাসমূহের চারপাশের জনবহুল অঞ্চলগুলোতে এই ধরনের সতর্কতামূলক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহ করার বিনিময়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই কোটি ডলারের বিরাট আর্থিক পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচনে নিজ দলের ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘরের মাটিতেই সাধারণ নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে এর মধ্যেও তিনি ইরানের সমস্ত শর্ত—যেমন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া—মেনে নিতে পুরোপুরি নারাজ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অত্যন্ত প্রতিকূল কৌশলগত ভূ-অবস্থান এবং তাদের শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানার তীব্র ভীতিই ট্রাম্পকে চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ফেলে দিয়েছে। কারণ, তারা ভালো করেই জানেন যে সীমিত পরিসরে কোনো সামরিক অভিযান শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি বা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে।

যুদ্ধের উন্মাদনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে পরোক্ষ আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রয়েছে। এমনকি ইরান সরকারের পক্ষ থেকে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে একদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী যেমন যেকোনো উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই পূর্ণাঙ্গ ও বড় ধরনের সামরিক অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়ার সব প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে, তেমনই তেহরানও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে যে তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হলে তারা গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক ধ্বংসাত্মক ও ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানবে।

মন্তব্য করুন