ইরানে ট্রাম্পের হঠাৎ হামলায় দুই সপ্তাহের ঘোষণা ছিল ধোঁয়াশা

অনলাইন ডেস্ক :

তেহরানে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ হামলার পর ফের আলোচনায় এসেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তিনি আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি না— সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তার সরকার দুই সপ্তাহ সময় নেবে, কিন্তু ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায়ই ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালান ট্রাম্প।

সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প আগে থেকেই নিয়েছিলেন এবং এই ‘দুই সপ্তাহ সময়’ ঘোষণাটি ছিল কেবল একটি কৌশল, যাতে পরিকল্পনার বিষয়টি গোপন রাখা যায় এবং ইরানকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট নিজেই পরে স্বীকার করেন, হামলার পরিকল্পনা গোপন রাখতে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে ইরানকে বিভ্রান্ত করতে তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, হামলার আগের কয়েকদিন ধরেই ট্রাম্প প্রতিদিনই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে। মূলত, হামলার বিষয়টি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প হতাশ হয়ে পড়েন এবং তখনই ‘দুই সপ্তাহ’ সময় নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সাম্প্রতিক এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান— এই তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমরা অত্যন্ত সফলভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা পরিচালনা করেছি।”

বিভিন্ন বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না বরং এটি ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্বনির্ধারিত ও সুপরিকল্পিত রণকৌশলের অংশ।