অনলাইন ডেস্ক :
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ইসরায়েলে পাচার করছে—এমন অভিযোগ এনে ইরান সরকার দেশের নাগরিকদেরকে স্মার্টফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ মুছে ফেলতে আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) স্থানীয় সময় বিকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই আহ্বান জানানো হয়।
তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে জানিয়েছে, এমন সময়ে যখন মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম চায়, তখন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাদের সেবা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।
হোয়াটসঅ্যাপ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করে, যার ফলে বার্তা শুধু প্রেরক ও প্রাপকই পড়তে পারে। মেসেজিং প্রক্রিয়ায় কোনো তৃতীয় পক্ষ বা সরকার বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারে না। তারা ব্যবহারকারীদের অবস্থানও সুনির্দিষ্টভাবে ট্র্যাক করে না এবং কোনো সরকারের কাছে গণহারে তথ্য সরবরাহ করে না বলেও উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি ফ্যালকো জানান, হোয়াটসঅ্যাপের কিছু মেটাডেটা এনক্রিপ্ট করা হয় না, যা থেকে অ্যাপ ব্যবহারের ধরন বোঝা সম্ভব। এছাড়া তিনি ‘ডেটা সার্বভৌমত্ব’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সময়ই অ্যাপের তথ্য সেই দেশের ভেতর হোস্ট করা হয় না, যেমনটা ইরানের ক্ষেত্রেও হতে পারে।
উল্লেখ্য, মেটা মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ইরানে জনপ্রিয় হলেও অতীতে এসব অ্যাপে নানা সময়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি। বিশেষ করে ২০২২ সালে এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চলাকালে হোয়াটসঅ্যাপ ও গুগল প্লে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়।
বর্তমানে বহু ইরানি নাগরিক ভিপিএন ও প্রক্সির মাধ্যমে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছেন।











