অনলাইন ডেস্ক:
ইরান রবিবার একটি নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে, যার পাল্লা এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তেহরানে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্মোচন করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘এতেমাদ’, যার ফার্সি ভাষায় অর্থ ‘বিশ্বাস’।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের সর্বশেষ ব্যালিস্টিক প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। এর পাল্লা এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার, যা ইরানের চিরশত্রু ইসরায়েলসহ অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম।
ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তারা অভিযোগ করেছে যে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। গত বছর গাজা উপত্যকার যুদ্ধের পর, ইরান সেখানে দুই দফা হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া, ১০ ফেব্রুয়ারি ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৪৬তম বার্ষিকী উদযাপন হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণের সাহস যেন কোনো দেশ না দেখায়, তা নিশ্চিত করতেই আমরা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়ন করছি।”
গত কয়েক বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ইরান একাধিক শক্তি প্রদর্শন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের সামরিক মহড়া ও ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটির প্রকাশ। পাশাপাশি, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, যা কয়েক দশক ধরে উত্তেজনার বিষয় হয়ে রয়েছে।
ইরান, যা একসময় মার্কিন মিত্র রাষ্ট্র ছিল, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন করতে বাধ্য হয়েছে। ১৯৮০-১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হওয়ার পর থেকে ইরান তার নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অস্ত্র উৎপাদনে মনোযোগ দিয়েছে। বর্তমানে, দেশটির শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।











