এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে: উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের বাজার মূল্য ১২০০ টাকার বেশি হওয়ায় গৃহস্থালি ও শিল্পখাতের ব্যবহারকারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এই দাম ১০০০ টাকার মধ্যে রাখা উচিত।”
উপদেষ্টা বলেন, “এলপিজি খাতে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো দাম। অনেক জায়গায় একটি সিলিন্ডার ১৪০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই দামের নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দিতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “দেশের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। এটি মূলত রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী স্বার্থের কারণে সৃষ্ট একটি পরিকল্পিত সংকট। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় গ্যাসের চাহিদা উপেক্ষা করা হয়েছে, ফলে শিল্প ও গৃহস্থালিতে অবৈধ সংযোগ বেড়েছে।”
স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিবছর ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমছে, অথচ নতুনভাবে সংগ্রহ করা যাচ্ছে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে বিকল্প হিসেবে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে, যার উচ্চমূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি বলেন, “এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হলেও স্বল্পমেয়াদে সংকট মোকাবেলায় এলপিজি একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।”
ফাওজুল কবির খান সতর্ক করে বলেন, “দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মনোভাব ছাড়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
