নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসএসএফ সদস্যদের প্রতি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনবান্ধব আচরণ ও পেশাগত উৎকর্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে অনুষ্ঠিত ‘প্রধান উপদেষ্টার দরবার’-এ তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ঘোষিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে জনদুর্ভোগ যেন না হয়, সে দিকটি এসএসএফকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি বলেন, অতীতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিআইপি ফ্লাইটের কারণে এক ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকত, যা জনদুর্ভোগ তৈরি করত। এ বিধিনিষেধ তিনি প্রত্যাহার করেছেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ হ্রাস পাবে।
এসএসএফ সদস্যদের প্রতি রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক গুণাবলী অপরিহার্য।”
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা হুমকি আজকাল প্রযুক্তিগত কারণে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, ফলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও এসএসএফ দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
তিনি বলেন, শিগগিরই বাহিনীর পুরনো ভিএইচএফ কমিউনিকেশন সিস্টেমের পরিবর্তে আধুনিক ইউএইচএফ প্রযুক্তি সংযোজন করা হবে। সেইসঙ্গে অত্যাধুনিক ইনডোর ফায়ারিং রেঞ্জের কাজ প্রায় শেষ, যা আগামী মাস থেকে চালু হবে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, “এসএসএফ একটি ক্ষুদ্র বাহিনী হলেও, এর কাজের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা অনেক বেশি। বিগত ১০ মাসে দেশ ও বিদেশে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেছে।”
অনুষ্ঠানে এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী জানান, বর্তমানে এসএসএফের সদস্য সংখ্যা ৫৭০ এবং তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাসহ ভিআইপিদের নিরাপত্তায় পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।











