কানাডায় লিবারেল পার্টির জয়

অনলাইন ডেস্ক:

কানাডার জাতীয় রাজনীতিতে এবারের সাধারণ নির্বাচন একটি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। টানা চতুর্থবারের মতো দেশটির ক্ষমতায় ফিরেছে লিবারেল পার্টি। তবে এই জয় শুধুমাত্র একটি দলের নয়, এটি কানাডার স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ধরনের প্রতিক্রিয়াও বটে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও শুল্ক হুমকির প্রেক্ষাপটে।

সর্বশেষ পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, কানাডার ৩৪৩ আসনের পার্লামেন্টে লিবারেল পার্টি পেয়েছে ১৬৭টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ছিল ১৭২টি আসন, অর্থাৎ মাত্র ৫টি আসন কম। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১৪৫টি আসন। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনে লিবারেলদের ছোট দলগুলোর সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে। কানাডার ইতিহাসে সংখ্যালঘু সরকারগুলোর স্থায়িত্ব সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর হয়।

নির্বাচনে লিবারেল পার্টির হাল ধরেন সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান এবং রাজনীতিতে নবাগত মার্ক কার্নি। গত মাসে জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন। এর আগে তিনি কানাডা এবং যুক্তরাজ্য—উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে সফল দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা এবং শান্ত নেতৃত্বের কারণে তিনি দ্রুত জনগণের আস্থা অর্জন করেন।

নির্বাচনের আগ মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডার তৈরি গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর মত স্পর্শকাতর মন্তব্য করেন। এতে কানাডার রাজনীতিতে এক দেশাত্মবোধক আবহ তৈরি হয়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন কার্নি। তিনি ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কানাডার অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার করেন।

ভোটের আগের দিন, ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভারে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় ১১ জন নিহত হন। এই ঘটনায় উভয় প্রধান প্রার্থী সাময়িকভাবে তাদের প্রচার স্থগিত করেন। যদিও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করেছিলেন, তবে ভোটদানে নিরুৎসাহ দেখা যায়নি। বরং এই ঘটনার পর নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব আরও বেশি করে উঠে আসে।

বিভিন্ন জরিপে লিবারেলদের সামান্য এগিয়ে থাকা দেখা গেলেও, বাস্তবে তাদের এই পুনর্নির্বাচন অনেক বড় বার্তা দিয়েছে। জনগণ ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি, অঙ্গরাজ্য বানানোর বক্তব্য এবং দেশের অর্থনীতির ওপর বাইরের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

নির্বাচনের পর এখনও কার্নি বা কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভ্রে’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এটা পরিষ্কার, এই ফলাফল শুধুমাত্র একটি দলের জয় নয়—এটি কানাডিয়ানদের স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের প্রতি অঙ্গীকারের জোরালো প্রকাশ।