গাইবান্ধা কৃষকদের ভুট্টা সার সংকটের বাস্তব চিত্র

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলার চরে ভুট্টা চাষের মৌসুমে সারের ঘাটতি নিয়ে কৃষকরা একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন ।সম্প্রতিপ্রতিবেদনে জানা যায়, আল আমিনসহ কয়েকজন কৃষক উচ্চমূল্যের কারণে সঠিক পরিমাণে সার কিনতে পারছেন না এবং তা তাদের উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে।

আল আমিন ফজলুপুর ইউনিয়নের উজলডাঙা গ্রামে ঘোড়ার গাড়িতে এক বস্তা সার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় তিনশ টাকা বেশি দিয়ে ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কিনতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ ইউরিয়া তার কাছে উপলব্ধ ছিল না ।তিনি আরও উল্লেখ করেন, একই চরে তিনি পনেরো বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন এবং এই বছর পাঁচ বিঘা জমিতে আমন বপন করেছেন, আর বাকি দশ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

চরে আরেকজন কৃষক মোহাম্মদ লিটন ভুট্টা বীজ বপন শুরু করেছেন, তবে তিনি মাত্র এক থেকে এক‑দেড় বিঘা জমিতে সার দিয়ে কাজ করতে পেরেছেন। বাকি জমিতে সারের অভাবে তিনি চাষ চালিয়ে যেতে পারছেন না ।লিটন জানান, ডিলাররা বিশ কেজি থেকে ত্রিশ কেজি পর্যন্তই সার সরবরাহ করে এবং ত্রিশ কেজির উপরে কোনো পরিমাণে সার দেয় না, ফলে তার চাষের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।

প্রবীণ কৃষক আতাবর হোসেনের কথায় সারের কঠিন অবস্থা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তিনি বলেন, আইডি কার্ড ছাড়া ডিলাররা সার বিক্রি করে না এবং বর্তমান দামে দুই হাজার বাইশ টাকা চায় ।তাই তিনি ঘোড়াঘাট থেকে ছয় বস্তা সার চৌদ্দশ টাকায় সংগ্রহ করে ব্যবহার করছেন ।হোসেনের মতে, এই বছর সারের সমস্যার মাত্রা পূর্বের চেয়ে বেশি এবং ভুট্টা চাষের জন্য যথাযথ সার সরবরাহ না হওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।