অনলাইন ডেস্ক :
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তার এই মনোবাসনা নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালে প্রথম মেয়াদে তিনি একই চেষ্টা করেছিলেন, তবে সে সময় এটি রসিকতা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণে ‘যে করেই হোক না-কেন’ বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তার এই মনোভাব এবং প্রকাশভঙ্গি দেখে এখন আর কেউ বিষয়টিকে ঠুনকো মনে করছেন না।
গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের আগ্রহের কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও খনিজসম্পদের সমৃদ্ধির কথা উল্লেখ করছেন। গ্রিনল্যান্ডে লিথিয়াম, গ্রাফাইটসহ ৩১ ধরনের খনিজের বিশাল মজুদ রয়েছে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই খনিজ সম্পদের কারণে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর দৃষ্টি এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে।
ডেনমার্কের স্বনিয়ন্ত্রিত এই দ্বীপটি ১৯৭৯ সাল থেকে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে ট্রাম্পের মনোভাব ও আগ্রহের কারণে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুৎসি বোওরব এয়েদে বলেছেন, “আমরা আমেরিকান হতে চাই না, ডেনিসও না; আমরা কালাল্লিত নুনাত (গ্রিনল্যান্ডবাসী)।” তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং তারা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিসরে আর্কটিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলতে শুরু করেছে, যা এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও সামরিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আর্কটিক অঞ্চলে বাণিজ্যিক পথের সৃষ্টি এবং খনিজ সম্পদের উত্তোলনের সুযোগ লাভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনসহ শক্তিশালী দেশগুলো এই অঞ্চলের ওপর নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া।
বিশ্বে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি, গ্রিনল্যান্ডের উপর বিদেশি হস্তক্ষেপকে প্রতিহত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের স্বাধীনতা চাই, এবং আমাদের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব গ্রিনল্যান্ডবাসীর।”
এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় চীনও আর্কটিক অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে আগ্রহী। যদিও ট্রাম্পের প্রস্তাব ডেনমার্ক প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে এটি এখন একটি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।











