জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দুই শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখালে আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টার পর শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এবং ভবন তালাবদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই হুঁশিয়ারি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ জুলাই সংঘটিত হামলার পর থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে তারা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।

গতকাল দুপুরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনায় শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান ও সহকারী প্রক্টর মো. শফিকুল ইসলাম।

আলোচনায় শিক্ষার্থীরা মোট পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন:
১. হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ।
২. জড়িত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার।
৩. অছাত্রদের আজীবনের জন্য ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা।
৪. ভবিষ্যতের সহিংসতা প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রজ্ঞাপন।
৫. রাজনৈতিক ট্যাগ ও অপপ্রচার রোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

শিক্ষক সমিতি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে রাতের মধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দেয়। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন।

তবে শিক্ষার্থীরা জানান, আজ সকাল ১০টার মধ্যে প্রশাসন প্রতিশ্রুত কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে ভবন তালাবদ্ধ করা হবে। তবে ভবনের ভিতরে চলমান মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে না।

এদিকে, বিভাগের ব্যাচভিত্তিক আলোচনা সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ও পুরো ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ দিয়ে মানসিক হয়রানি করেছেন। বিশেষ করে বিভাগের দীর্ঘদিনের শ্রেণি প্রতিনিধি নন্দিনী ঘোষকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হন বলে জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে দায়ভার নিতে আহ্বান জানান।