নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) র্যাব বিলুপ্তি, ডিজিএফআই-এর কর্মকাণ্ড সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রাখা এবং আনসারের ওপর থেকে সেনা নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারসহ একাধিক সুপারিশ দিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, জাতিসংঘের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে সরকার আলোচনা করবে এবং তারপর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এবং সরকার এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে পর্যালোচনা করবে। জাতিসংঘের এই তদন্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের এক অনুসন্ধানী দল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বুধবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক প্রতিবেদনটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালানো হয়। এতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচার গুলি, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও চিকিৎসা পাওয়ায় বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উঠে এসেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
জাতিসংঘের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।











