ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর: মানবাধিকার নয়, সম্পর্ক ও বিনিয়োগই মুখ্য

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তার ভূমিকায় যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনই বদলেছে তার কূটনৈতিক সফরের ধরণ। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে তার রাষ্ট্রীয় সফরেও সেই ব্যতিক্রম ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সফরে তিনি মানবাধিকার ইস্যু এড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কৌশলগত সহযোগিতাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

সৌদি সফর: সম্পর্ক সুদৃঢ়, মানবাধিকার উপেক্ষিত

১৩ মে মঙ্গলবার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে তিনি বলেন, “এখন আর সেই দিন নেই যে আমেরিকান কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে উড়ে এসে আপনাদের শেখাবে কেমন করে দেশ চালাতে হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক নীতির সঙ্গে বিপরীত।

সৌদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক ‘সেরা সময় পার করছে’ বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সফর ও বক্তব্য মানবাধিকারের বিষয়টিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।

সমালোচনার ঝড়: নির্বাসিতদের ক্ষোভ ও শঙ্কা

এই সফর নিয়ে সরব হয়েছেন সৌদি আরব থেকে পালিয়ে আসা মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের একজন আবদুল্লাহ আলআউধ বলেন, “ট্রাম্প যুবরাজ সালমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন, যিনি আমার বাবাকে কারাবন্দি করেছেন।” তার ভাষ্যে, এ ধরনের সফর সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির বদলে আরও অবনতির ইঙ্গিত বহন করে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক সৌদি নাগরিক এবার সামাজিক মাধ্যমে নীরব। অনেকে আশঙ্কা করছেন, ফিলিস্তিন নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে যদি কেউ সৌদি বা মানবাধিকার ইস্যুতে কথা বলেন, তবে তাকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হতে পারে।

মানবাধিকার ইস্যুতে মার্কিন দ্বৈত নীতি?

মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদিতে বন্দি মার্কিন নাগরিক বা অধিকারকর্মীদের বিষয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টমি পিগট জানান, আলোচনার বিষয়গুলো ‘ব্যক্তিগত’ ছিল।

সারাহ লিয়া হুইটসন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ডেমোক্রেসি ইন অ্যারার ওয়ার্ল্ড নাউ’-এর নির্বাহী পরিচালক, বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখন অন্য কোনো দেশের মানবাধিকার নিয়ে কথা বললে তা অপ্রাসঙ্গিক ও হাস্যকর শোনায়। তারা নৈতিক অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।”

সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ চিত্র

খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সৌদি প্রশাসন কিছু সংস্কার এনেছে। নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার দেওয়া হয়েছে, কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো বহু আলেম, অধিকারকর্মী ও সমালোচক কারাবন্দি।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির ঘনিষ্ঠতা, সৌদি আরবে মার্কিন বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ট্রাম্প পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।