তিন মাস পর গাজায় প্রবেশ করলো মানবিক সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক:

টানা তিন মাসের অবরোধ শেষে অবশেষে গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেছে মানবিক সহায়তা। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ মে) সকালে ইসরায়েলি সীমান্ত কেরেম শালোম দিয়ে গাজায় ঢোকে শিশুখাদ্যসহ জরুরি পণ্যবাহী পাঁচটি ট্রাক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থা কোগাট।

গাজায় দীর্ঘদিনের খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। সেই চাপের প্রেক্ষিতেই গাজায় সীমিত সহায়তা প্রবেশে সম্মতি দেয় ইসরায়েল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ অনাহারে ভোগা মানুষের ছবি ছড়িয়ে পড়লে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছিল।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বলেন, পাঁচটি ট্রাক ‘জলাশয়ে একটি বিন্দুর’ মতো। তিনি বলেন, সহায়তা প্রয়োজন কয়েকগুণ বেশি এবং মার্চে যেভাবে প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ঢুকত গাজায়, সেই প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, স্থলপথের নিরাপত্তাহীনতা এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে সহায়তা লুট বা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা একটি যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে একেবারেই অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেছে এবং গাজায় পূর্ণ সহায়তা প্রবেশ ও হামলা বন্ধে পদক্ষেপ না নিলে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই বিবৃতিকে নেতানিয়াহু তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি ৭ অক্টোবরের ইসরায়েলবিরোধী হামলার জন্য একধরনের ‘পুরস্কার’।

এই মানবিক সহায়তার মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা আরও জোরদার হয়েছে। উপত্যকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খান ইউনিস থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। শহরটির বড় অংশ ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। নেতানিয়াহু সোমবার আবারও বলেন, ইসরায়েল গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় এবং এমন একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় যাতে বহু গাজাবাসী স্বেচ্ছায় অন্য দেশে অভিবাসন নেন। ফিলিস্তিনিরা এই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

হামাস বলছে, তারা কেবল স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে জিম্মিদের মুক্তি দেবে। তারা ইসরায়েলের সহায়তাকে মানবিক পদক্ষেপ নয় বরং রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে দেখছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও সীমিত পরিসরে সহায়তা দেওয়া মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং তারা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে, জার্মানি, ইতালি, জাপানসহ ১৮টি দেশ পৃথক এক বিবৃতিতে গাজায় অবিলম্বে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য নিরপেক্ষ সংস্থার সহায়তায় পূর্ণ মাত্রায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, ইসরায়েলের বর্তমান পদক্ষেপ মানবিক আইন ও ন্যূনতম মানবিক মর্যাদার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্বের চোখ এখন গাজার দিকে। সহায়তা প্রবেশ শুরু হলেও তাতে বাঁচবে না লক্ষ ক্ষুধার্ত মুখ—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক চাপ, রাজনৈতিক দ্বিধা এবং সামরিক আগ্রাসনের এই টানাপড়েনে গাজার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।