অনলাইন ডেস্ক
কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর, তুরস্ক ও কুর্দি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য “দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন” প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও কারাবন্দি নেতা আবদুল্লাহ ওজালান।
রোববার ইস্তানবুলের উপকূলীয় ইমরালি দ্বীপের কারাগার থেকে প্রো-কুর্দি ডিইএম দলের একটি প্রতিনিধি দল ওজালানের বার্তা নিয়ে আসে। দলটি জানান, ১২ মে পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংগ্রামের ইতি টানার পর এই প্রথম ওজালানের সঙ্গে কোনো দলের সাক্ষাৎ হয়েছে।
৭৬ বছর বয়সী ওজালান বলেন, “আমরা যা করছি, তা একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপের চেয়ে অনেক বড়—এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল রূপান্তর। তুর্কি ও কুর্দিদের সম্পর্ক যেন ভাইয়ের মতো, যাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে, কিন্তু তারা একে অপর ছাড়া টিকতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই সম্পর্কের পথে যেসব ফাঁদ ও বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে, সেগুলো সরাতে হবে। আমাদের ভাঙা সেতু ও রাস্তা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। একটি নতুন ভ্রাতৃত্বের চেতনার ভিত্তিতে একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।”
ডিইএম দলের পক্ষ থেকে ওজালানের সঙ্গে দেখা করেন দলটির সংসদ সদস্য পেরভিন বুলদান এবং তার আইনজীবী ওজগুর এরল। প্রতিনিধি দলে থাকার কথা থাকলেও ছিলেন না বর্ষীয়ান কুর্দি মধ্যস্থতাকারী সিররি সুরেয়া ওন্দর, যিনি ৩ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
ওজালান বলেন, “শেষবারের মতো ওন্দরের সঙ্গে কথা বলার তীব্র ইচ্ছে ছিল। তিনি তুরস্কের জন্য এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি এমন একটি স্মৃতি রেখে গেছেন, যা আমাদের জীবিত রাখতে হবে।”
প্রসঙ্গত, ১৯৮৪ সালে পিকেকে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করার পর থেকে চলমান সংঘর্ষে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ওজালান ১৯৯৯ সাল থেকে ইমরালি দ্বীপের একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে একাকী বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
সরকার বলেছে, তারা পিকেকে-র নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে কুর্দিদের প্রতি সরকারের মনোভাবেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি সূত্র বলছে, ওজালানকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ এতে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। তবে বন্দিত্বের কিছু শর্ত শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
তুরস্কের প্রায় ৮৫ মিলিয়ন জনগণের মধ্যে কুর্দিদের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক।











