দামেস্কের গির্জায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত অন্তত ২২, আহত ৬৩

অনলাইন ডেস্ক :

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মার এলিয়াস গির্জায় এক বন্দুকধারী প্রার্থনারতদের ওপর গুলি চালান এবং পরে নিজের শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হন।

সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি।

ব্রিটেনভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এ হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছে। যদিও তারা আহতদের নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানায়নি।

ঘটনার পরপরই সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল গির্জায় পৌঁছায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুখ ঢাকা এক বন্দুকধারী গির্জায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে উপস্থিত লোকজন তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তখন হামলাকারী গির্জার প্রবেশপথে বিস্ফোরণ ঘটান।

গির্জার যাজক ফাদার ফাদি ঘাট্টাস বলেন, “আমি অন্তত ২০ জনের মরদেহ দেখেছি। গির্জায় তখন প্রায় ৩৫০ জন প্রার্থনারত ছিলেন।”
আরেক যাজক মেলেটিয়াস শাহাতি দাবি করেন, হামলাকারী একাধিক ছিল। দ্বিতীয় এক বন্দুকধারী গির্জার দরজার দিকেও গুলি ছুঁড়েছিলেন।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা মোস্তাফা একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “এই কাপুরুষোচিত কাজ আমাদের নাগরিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। সরকার সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নূরুদ্দিন আল-বাবা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলার সঙ্গে উগ্রপন্থী ইসলামিক স্টেট (আইএস) জড়িত থাকতে পারে। তার ভাষায়, “উপাসনালয়ের নিরাপত্তা আমাদের জন্য রেড লাইন। আইএস ও অন্যান্য উগ্র গোষ্ঠী সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করতে চায়।”

ঘটনার পরপরই সিরিয়ার সমাজকল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী হিন্দ কাবাওয়াত গির্জায় গিয়ে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেন।

এই হামলা সিরিয়ায় বহু বছর পর কোনো গির্জায় সংঘটিত অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন এক সময় এই হামলা ঘটল, যখন সিরিয়া বিভিন্ন ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষিতে দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর নতুন করে সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।