নওগাঁর চুনিয়াগাড়ি গ্রামে সড়ক নয়, যেন ধানের জমি

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ:

নওগাঁ সদর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ গ্রাম চুনিয়াগাড়ির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে ভুগছেন সড়ক অবকাঠামোর বেহাল অবস্থার কারণে। চারপাশে ধানখেত, পুকুর আর শান্তিপূর্ণ গ্রামীণ জীবনযাপনের মাঝে গ্রামে প্রবেশ করলেই যেন বদলে যায় চিত্র। মাটির রাস্তার জায়গায় এখন কাদা-পানিতে ভরা খানাখন্দের ঝুঁকিপূর্ণ পথ। চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও দিনমজুরসহ সর্বসাধারণকে।

চুনিয়াগাড়ি গ্রামটি চণ্ডিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এবং এটি ছোট চুনিয়াগাড়ি ও বড় চুনিয়াগাড়ি নামক দুটি অংশে বিভক্ত। এই দুই অংশকে সংযুক্তকারী প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার অবস্থা এতটাই করুণ যে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি কৃষি জমির সঙ্গে বিভেদ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই চিত্র গ্রামের বটতলি-বিশ্ববাঁধ এবং তালতলি-বিশ্ববাঁধ সড়কের ক্ষেত্রেও। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় এসব রাস্তায় তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত, উঠে গেছে ইট। এতে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।

এ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা। বর্ষার সময় রাস্তায় চলাচলের অযোগ্যতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায়। এমনকি শিক্ষক নিয়োগের পরও দুর্গম রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াত করতে না পারায় অনেকেই বদলির আবেদন করেন।

অন্যদিকে কৃষক ও খামারিরা তাদের উৎপাদিত ফসল বা পোলট্রির পণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ছোট বাহনগুলো রাস্তায় চলাচল করতে না পারায় অনেক কৃষক পণ্যের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, বাড়ছে লোকসান।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, “আমরা শুধু একটা দাবি জানাচ্ছি—রাস্তা চাই। যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।”

শিক্ষক আলমগীর বাবু বলেন, “শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে, কারণ অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক।”

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিরা কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়ায় সমস্যা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। তারা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন জানান, “গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই জীবনমান সম্ভব নয়। চুনিয়াগাড়ির সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করব এবং দ্রুত আধুনিকায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”