জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ :
নওগাঁয় চতুর্থ দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালেও গাড়ি বন্ধ রেখে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে মারামারির জেরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তঃজেলা রুটে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের সঙ্গে ‘মহন্ত পরিবহন’ নামের একটি বাসের চালক ও সহকারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাস বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাস শ্রমিকরা সকাল থেকে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ করে দেয়। বাস শ্রমিকদের বাধা উপেক্ষা করে যেসব চালক সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের ওপর বাস শ্রমিকরা হামলা চালান বলেও অভিযোগ ওঠে ।
পরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু দুই ঘণ্টাও সেই সিদ্ধান্ত টেকেনি। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস গেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা আবারও বাসচালকের ওপর হামলা চালান। ফলে ফের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে টানা চার দিন ধরে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প বাহন হিসেবে অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
রাজশাহীগামী যাত্রী ইকবার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস বন্ধ। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছেন। এভাবে আকস্মিক যান চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়বে।
আদালতে হাজিরা দিতে আসা পোরশার তারিক হোসেন বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হয়ে শুনি বাস নেই। তিন দফায় ভেঙে ভেঙে বিকল্প যানবাহনে আসায় অতিরিক্ত ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে, সেই সঙ্গে সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রচুর। আমরা চাই দ্রুত এই ভোগান্তির অবসান হোক।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার কোনো লিখিত রূপ আমরা পাইনি। ফলে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে নিরাপত্তার অভাব ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। লিখিত সিদ্ধান্ত পেলে আজ থেকেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে সাময়িক এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালি ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই সমাধান আসবে।











