অনলাইন ডেস্ক:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন (৩৬) জামায়াতে ইসলামীর কর্মী নয় বলে দাবি করেছে দলটি। একইসঙ্গে জামাল উদ্দিন জামায়াতের কর্মী বলে যে সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা। গত সোমবার রাতে পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ঠুনঠুনিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিনকে রোববার ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে জামাল উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, যা সত্য নয়। তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো রকম সম্পর্ক নেই। জামাল উদ্দিন গত বছরের ৩ নভেম্বর জামায়াতের কর্মী হয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন রকম চারিত্রিক ত্রুটির কারণে চলতি বছরের ২২ জুন তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাছাড়া মাদ্রাসাছাত্রী দাবি করা মেয়েটি জামাল উদ্দিনের বিবাহিত স্ত্রী। স্থানীয় মৌলভীর মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয় এক বছরের বেশি সময় আগে। পরে চলতি বছরের ১৪ জুন পঞ্চগড় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেফিড করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
মূলত গত এক বছর ধরে ভরণপোষণ না দেওয়ার কারণে মেয়েটির নানি পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন বলেন, জামালকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় কয়েকটি অনলাইনে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে গ্রেপ্তার জামাল জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। যা মিথ্যা ও বানোয়াট। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন না করে, শোনা কথার ওপর বিশ্বাস করে কোনো সংবাদ পরিবেশন করা নিতান্তই সংবাদ পরিবেশনের নীতিমালাবিরোধী। আমরা সাংবাদিক ভাইদেরকে অনুরোধ করবো, প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদটি নিজ নিজ সংবাদপত্র থেকে প্রত্যাহার করে সঠিক সংবাদ প্রচার করবেন। ভবিষ্যতে সংগঠনের নাম জড়িয়ে কোনো সংবাদ প্রচারের আগে প্রকৃত বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তা প্রচার করার জন্য আমরা আপনাদের প্রতি প্রত্যাশা করি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ, জেলা প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি শাহীদ আল ইসলাম, তেঁতুলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল হাকিম, সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান, পঞ্চগড় শহর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘ধর্ষণের পর মাদ্রাসা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত “জামায়াত কর্মী” গ্রেপ্তার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেখানে পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে উল্লেখ করা হয়, জামাল উদ্দিন আগে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয়। কিন্তু গত জুন মাসে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় জামায়াত।











