পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ে ১৩ জন নিহত

অনলাইন ডেস্ক:

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ে ১৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সন্ত্রাসী এবং ১ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্য রয়েছেন। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, ৫-৬ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তা বাহিনী গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালায় উত্তর ওয়াজিরিস্তানের হাসান খেলের জেনারেল এলাকায়। অভিযানে ১২ সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। তুমুল গোলাগুলিতে ল্যান্স নায়েক মুহাম্মদ ইব্রাহিম নিহত হন। নিহত সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট কিলিংয়ে অংশ নিয়েছিল।

আইএসপিআর জানায়, “অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং আমাদের সাহসী সেনাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরো শক্তিশালী করেছে।”

পাকিস্তানে সহিংস হামলার পরিমাণ গত কয়েক বছরে বেড়েছে, বিশেষত আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে। খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিআইসিএসএস) জানায়, জানুয়ারিতে সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতা ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ৭৪টি হামলায় ৯১ জন নিহত হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখোয়ার বসতিপূর্ণ এলাকায় সন্ত্রাসীরা ২৭টি হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ১৯ জন নিহত হয়েছে, এদের মধ্যে ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী, ৬ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২ জন সন্ত্রাসী। এছাড়া বেলুচিস্তানেও ২৪টি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছে এবং সেখানে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে।

নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান একটির দায় স্বীকার করেছে এবং অন্যটির দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি।