প্রতিমা বিসর্জনে দেবীকে বিদায়, সাঙ্গ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

অনলাইন ডেস্ক:

বিহিত পূজা, সিঁদুর খেলা আর শ্রদ্ধার্ঘ্যের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীতে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটসহ ঢাকাসহ সারাদেশের নির্ধারিত জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঙ্গ হয় ছয় দিনব্যাপী এই আনন্দ আয়োজন।

রাজধানীতে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুর থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় বিদায়ের প্রস্তুতি। বিকেল চারটায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বিজয়া শোভাযাত্রা। ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি ও ‘আসছে বছর আবার হবে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পথ। শোভাযাত্রাটি পলাশী, জগন্নাথ হল ও শহীদ মিনার হয়ে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানে একে একে ভাসানো হয় দেবী প্রতিমা। এছাড়া তুরাগ নদী ও বনানী মাঠসহ রাজধানীর ৩৩টি নির্ধারিত পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে নদী তীর ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেবল রাজধানীতেই মোতায়েন করা হয় প্রায় ১৬ হাজার সদস্য। বিসর্জনস্থলে নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও প্রতিমা নামানোর সুবিধার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় বিশেষ নৌকা ও ক্রেন।

এর আগে সকালে বিজয়া দশমীর বিহিত পূজা শেষে শুরু হয় মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। বিবাহিত নারীরা দেবীকে পান, মিষ্টি ও সিঁদুর নিবেদন করে বরণ করেন এবং ঐতিহ্যবাহী ‘সিঁদুর খেলা’য় মেতে ওঠেন। স্বামী ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় নারীরা একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ভক্তরা মেতে ওঠেন বিজয়ার কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ে।

ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, যশোরসহ দেশের সব জেলায় উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এবার ধরণীতে এসেছিলেন ঘোড়ায় চড়ে, আর বিদায় নিলেন নৌকায় চেপে। বিসর্জন দেখতে নদী তীরগুলোতে হাজারো মানুষের ঢল নামে।

উৎসবের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের এক নেতা জানান, ‘‘অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এবারের দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। মায়ের কাছে প্রার্থনা, তিনি সকল অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখবেন।‘’

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক ইতি টানার পর এবার শুরু হচ্ছে লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি। আগামী ২৫ অক্টোবর আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। শাস্ত্রমতে দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ, সৌভাগ্য, জ্ঞান ও সৌন্দর্যের প্রতীক। ভক্তদের বিশ্বাস, মা দুর্গার বিদায়ের পর ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে ধরণীতে আগমন ঘটে দেবী লক্ষ্মীর।