মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের পদত্যাগ: মেয়র নির্বাচনের দৌড়ে কি নতুন সমীকরণ?

অনলাইন ডেস্ক:

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তার এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিএনপির একটি অংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার মেয়র প্রার্থী হওয়ার পথ আরও সুগম হলো। তবে দলের নীতিনির্ধারকদের দাবি, এটি কেবল দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার একটি অংশ মাত্র।

গত ১৭ অক্টোবর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় পুলিশি অভিযানের সময় ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে নিলেও বিতর্ক থামেনি। শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। তবে তার অনুসারীদের দাবি, মন্ত্রিসভার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ায় এখন তিনি পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণায় সময় দিতে পারবেন।

ইশরাক হোসেনের মেয়র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছু নয়। তার বাবা অবিভক্ত ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে তিনি শুরু থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছেন। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মেয়র হিসেবে হাইকোর্টের রায় পাওয়ার পর থেকেই তার তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও বিএনপিতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। একে মেয়র নির্বাচনের কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে ইশরাক হোসেন নিজে জানিয়েছেন, তিনি মেয়র নির্বাচনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়, তবে তাকে জেতানোর জন্যও আমি কাজ করে যাবো। আমি কোনো কিছুতেই বিচলিত নই।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ইশরাকের পদত্যাগকে ‘ঐতিহাসিক ও সাহসী’ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং ভবিষ্যতে ইশরাকের জন্য আরও বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া ইশরাক ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি আবারও আলোচনায় আসেন। এখন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি আসন্ন সিটি নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।