প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে ঝিনাইদহের উন্নয়ন

জেলা প্রতিনিধি :

ঝিনাইদহ জেলায় সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে জেলা জুড়ে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই; কোথাও রাস্তা ভাঙা, কোথাও কালভার্ট নষ্ট হয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

অর্থ বরাদ্দের ঘাটতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। এলজিইডি, গণপূর্ত, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে বরাদ্দ থাকলেও মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘসূত্রিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে।

পৌরসভাগুলোর অবস্থাও একই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ও রাস্তা সংস্কারে স্থবিরতা বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে কর আদায় কমে যাওয়ায় পৌরসেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদাররা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প না থাকায় বাজারে টাকার প্রবাহ কমে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ঠিকাদারদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে; নির্মাণসামগ্রীর দোকানগুলোতেও মন্দা চলছে।

অর্থ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি ও দ্বিধা দেখা দিচ্ছে।’

সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি সাইয়েদুল আলম বলেন, ‘উন্নয়ন বন্ধ মানে জীবন থেমে যাওয়া। রাস্তা খারাপ, হাসপাতালে ওষুধ নেই—সব মিলিয়ে ঝিনাইদহ এখন অবহেলিত জেলার প্রতিচ্ছবি।’

তবে আশার কথা জানালেন জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “শহরের টার্মিনাল থেকে হামদহ ভায়া আরাপপুর সড়ক উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ কোটি ঢালাই রাস্তা ও ২৪ কোটি রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য বরাদ্দ।”