ফরিদপুরে পেঁয়াজের দরপতনে দিশেহারা চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি:

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে হঠাৎ পেঁয়াজের দরপতনে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ টাকায়, যেখানে উৎপাদন খরচ তুলতে হলে দর হওয়া দরকার ছিল ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা।

রবিবার সকালে সালথা উপজেলার ঠেনঠেনিয়া হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই চাষিরা নানা উপায়ে পেঁয়াজ নিয়ে হাটে আসছেন। স্থানীয় ও দূরের পাইকারদের কাছে তারা দরদাম করে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তবে চাষিদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে কম দামের কারণে তারা পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন ভালো দামের আশায়, কিন্তু বর্তমানে দর না বাড়ায় বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে, মজুদকৃত পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

চাষিরা জানান, উৎপাদনে খরচ বেড়েছে, আবাদও হয়েছে বেশি, কিন্তু বাজারে দাম বাড়েনি। নিজাম উদ্দিন শেখ, আলমগীর মোল্লা, ইব্রাহিম মাতুব্বর, নিছার উদ্দিন খানসহ একাধিক চাষি জানান, বর্তমান দামে বিক্রি করলে পুঁজি তো উঠছেই না, বরং লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহেদুজ্জামান জানান, ফরিদপুরে এ বছর প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে তিন ধরনের পেঁয়াজের চাষ হয়েছে—মুড়িকাটা, হালি ও দানা পেঁয়াজ। এর মধ্যে হালির চাষ সবচেয়ে বেশি। উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দর কমে গেছে বলে তিনি জানান।

ঠেনঠেনিয়া হাটের ব্যবসায়ী খোরশেদ মোল্লা বলেন, প্রতিটি হাট থেকে ৩০–৪০টি ট্রাকে পেঁয়াজ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় এবং একেক হাটে গড়ে এক কোটি টাকার বেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়।

চাষিদের আশঙ্কা, ন্যায্য দাম না পেলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবে অনেকেই।