ফিলিস্তিনিদের লিবিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক:

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, এবং বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে লিবিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলকেও এ বিষয়ে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্রমতে, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের পুনর্বাসনের বিনিময়ে লিবিয়াকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় দেওয়ার কথা রয়েছে, যা এক দশকেরও বেশি সময় আগে জব্দ করা হয়েছিল। এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত তিনটি পৃথক সূত্র এনবিসিকে নিশ্চিত করেছে।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় স্থানান্তরের বিনিময়ে বিনামূল্যে আবাসন এবং আর্থিক প্রণোদনারও আলোচনা চলছে। তবে এনবিসির মতে, এই পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, এবং ফিলিস্তিনিদের কতজন এতে রাজি হবেন তাও অনিশ্চিত।

অন্যদিকে, এই খবরকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম। তিনি বলেন, “এই ধরনের কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কে আমাদের কোনো তথ্য নেই। ফিলিস্তিনিরা তাদের মাতৃভূমি ত্যাগ করতে প্রস্তুত নয়। তাদের সিদ্ধান্তের অধিকার একমাত্র তাদের নিজেদেরই আছে।”

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে স্থানান্তরের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ লিবিয়া নিজেই একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত, বিভক্ত ও অস্থিতিশীল রাষ্ট্র। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া দ্বিধাবিভক্ত প্রশাসন, সশস্ত্র সংঘাত এবং মানবিক সংকটে রয়েছে। এমন একটি অস্থির রাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক মানুষকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাস্তবতাবিবর্জিত ও মানবিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, ইসরায়েল বা লিবিয়ার কোনো পক্ষই এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।