নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বাবা এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে মামলাটি করেন, যেখানে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ঘটনার পর গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে উত্তরখান থানার ওসি হাবিবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, এই ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদিকে, গ্রেফতারকৃত দীপকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই মামলার মূল তদন্ত সংস্থা নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম জানান, দীপকে ইতিমধ্যে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে পিবিআই-এর তদন্ত এবং তাদের নিজস্ব তদন্তে প্রাপ্ত সব তথ্য এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে। পরবর্তীতে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে পিবিআইয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নৌ পুলিশ মূল তদন্তের দায়িত্ব পালন করছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পিবিআই ছায়া তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তা যাচাই করেছে। পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআই। উল্লেখ্য, দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। এই কারণে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পিবিআই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল।
পরদিন শুক্রবার পিবিআইয়ের একটি বিশেষ তদন্ত দল দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় উপস্থিত হয়। তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে ঘটনার রাতে আসলে কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ওই মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ঘটনার রাতের পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই রাতে তিনি ও তাহসিফ দুজনেই তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তারা দুজনে যখন কথা বলছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করেন। দীপের দাবি অনুযায়ী, ওই ধাওয়াকারীদের মধ্যে অন্তত দুজনের গায়ে পুলিশের পোশাক পরিহিত ছিল।
দীপ আরও দাবি করেন, ওই ব্যক্তিদের সামনে আসতে দেখে তাহসিফ দ্রুত দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রাণ বাঁচাতে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে, দীপ নিজে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেখান থেকে তিনি নিরাপদে চলে যান বলে জানান।











