অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে রুপার দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতি আউন্স সোনা লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৮ দশমিক ৯৫ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় আউন্সপ্রতি ৫২ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ কম। পাশাপাশি প্রতি আউন্স রুপার দাম ২ দশমিক ৭ ডলার বা ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৮৯ ডলারে। এর ফলে আগের লেনদেনে অর্জিত পুরো মুনাফাই হারিয়েছে মূল্যবান ধাতু দুটি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে অপরিশোধিত তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বুধবার সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হওয়ার পর জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সৌদি আরবে তাদের কূটনৈতিক মিশনের কিছু কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই দরবৃদ্ধি বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগামী সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও বছরের শেষ নাগাদ তা আরও বাড়াতে পারে। উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে সোনা ও রুপার মতো নন-ইয়িল্ডিং বা সুদহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়, যা দরপতনের মূল কারণ।
মার্কিন ফেডের পাশাপাশি ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং ব্যাংক অব জাপানও তাদের বর্তমান সুদের নীতি কঠোর রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বশেষ এই পতনের কারণে গত এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং রুপার দাম ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।











