মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা খেলে ইরানে বড় হামলার অনুমতি দিতে পারেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক:

আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি খারাপ ফল করলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনে খারাপ ফলের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিব্রত বোধ করলে বা নিজেকে ক্ষমতাহীন মনে করলে তিনি এমন কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে পারেন। ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটিই তাদের হাতে থাকা সবচেয়ে মোক্ষম ও ভালো সুযোগ।

তবে এই ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের বিন্দুমাত্র কোনো প্রভাব পড়বে না। এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা প্রক্রিয়া আবার শুরু করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা সম্প্রতি তেহরানে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছেন।

তেহরানে অবস্থানকালে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা নিয়মিতভাবে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে গেছেন। একটি কূটনৈতিক সূত্র এই চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় এই বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, দুই দেশের পরস্পরবিরোধী ও অনমনীয় দাবির কারণে বর্তমানে এই আলোচনা প্রক্রিয়া এক প্রকার থমকে আছে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় পুনরায় ফিরে আসার শর্ত হিসেবে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে সবার আগে নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে, দেশের জব্দ করা সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং নির্বিঘ্নে তেল বিক্রির অনুমতি প্রদান করতে হবে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাতার তেহরানকে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়ে যাচ্ছে। এর মূল বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে বেশ কিছু কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মহলের ভেতরেই নীতিগত মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে বিরাজ করছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তেহরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তির বিষয়ে চরম সন্দিহান। তারা কোনো সমঝোতায় যাওয়ার চেয়ে বরং ইরানের নেতৃত্বকে আরও বেশি করে দুর্বল করে দেওয়ার পক্ষে নিজেদের অবস্থান শক্ত রেখেছেন। এর বিপরীতে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার অত্যন্ত নাজুক মুহূর্তেই এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেল। ইতিপূর্বে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছিল এবং এর তাৎক্ষণিক জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলে বেশ কিছু পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও বিপজ্জনক উত্তেজনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যকার গভীর উত্তেজনা ও আস্থার সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি।