মহারাষ্ট্রে ১৮ তলা থেকে পড়ে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের আকুল আবেদন চিরকুটে

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার একটি বহুতল ভবনের ১৮ তলা থেকে নিচে পড়ে ৩৩ বছর বয়সী এক নারী ও তার ছয় বছর বয়সী ছেলের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সিগনেচার পার্ক নামের একটি আবাসন কমপ্লেক্সে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই ঘটনায় নিহত নারীর নাম একতা বাঙ্গার। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরেই মেরুদণ্ডের জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর তার ফ্ল্যাট থেকে ৭ থেকে ৮ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ চিরকুট উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নিহত একতা তার স্বামী মনোজ বাঙ্গার ও একমাত্র ছেলে মাধবকে নিয়ে ওই আবাসিক কমপ্লেক্সেই বসবাস করতেন। তার স্বামী মনোজ পুনের একটি স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একতা তার শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে ভবনের ১৮ তলার প্যাসেজ থেকে নিচে পড়ে যান। খবর পাওয়ার পরপরই ওয়াকাড় থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং এই ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চিরকুটটিতে একতা তার দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ার কারণে বয়ে বেড়ানো তীব্র যন্ত্রণার কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, চিরকুটে তিনি তার স্বামীর প্রতি গভীর অনুভূতির কথা ব্যক্ত করে তাকে নতুন করে জীবন শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মায়ের অবর্তমানে শিশুর ভবিষ্যৎ কষ্ট ও মানসিক ব্যাকুলতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি গভীর আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন।

দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক হতাশা থেকেই মূলত এই করুণ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওয়াকাড় থানার পুলিশ আপাতত একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করাসহ ঘটনার সার্বিক দিক খতিয়ে দেখছে।