নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের মহাসড়কগুলোতে প্রতি বছরই অকালে ঝরছে শত শত প্রাণ। বিগত ৫ বছরে ৩৫ হাজার ১৭৪ জনের প্রাণ সড়কে ঝরেছে আর ৫৯ হাজার ৯৮৫ জন পঙ্গুত্বসহ আহত হয়েছেন। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ভয়াবহ সব সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক নিরাপত্তা আইন ও সচেতনতার অভাব, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বেপরোয়া গতির কারণে মহাসড়কগুলোতে ওসব দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে জাতীয় মহাসড়কে ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনা বেড়েছে আর আঞ্চলিক সড়কে বেড়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে ১৭ শতাংশ, আহত ১২০ শতাংশ। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাস, ট্রাক এবং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার। পরিবহন এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের জাতীয় মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, সিএনজি, অটোরিকশা, নছিমন, করিমন চলাচল এবং অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণেই মূলত দুর্ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু দুর্ঘটনার সমস্যা চিহ্নিত হলেও দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সূত্র জানায়, সড়ক মৃত্যুর মিছিল থামাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। সারাদেশে সড়কগুলোতে বিগত ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৩৩ হাজার ৬২২টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ওসব দুর্ঘটনায় ৩৫ হাজার ১৭৪ জন মারা গেছে আর আহত হয়েছে আরো অন-ত ৫৯ হাজার ৯৮৫ জন। দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে ১২ হাজার ৩৮টি, আঞ্চলিক সড়কে ১২ হাজার ৩৬৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৫ হাজার ৭০টি এবং শহরের সড়কে ৩ হাজার ৮০৮টি। তারপরও দুর্ঘটনার সব ঝুঁকি বিদ্যমান রেখেই মহাসড়কে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গতি বাড়ানোর আয়োজন করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, দেশের মহাসড়কগুলোতে গতি বাড়লেও চালকের প্রশিক্ষণ বাড়েনি। বর্তমানে দেশে এঙ্প্রেসওয়ে হচ্ছে, দুই লেনের সড়ক চার লেন হচ্ছে। পানির নিচে, মাটির ওপরে বিশাল বিশাল স্থাপনা হচ্ছে কিন্তু সেসব সড়কে চলার মতো উপযুক্ত যানবাহন আসছে না। বরং জাতীয় মহাসড়কে রিকশা চলছে। দুর্ঘটনার জন্য সম্ভাব্য যতো ধরনের ঝুঁকি থাকে তার সবই মহাসড়কগুলোতে বিদ্যমান রয়েছে। তারপরও মহাসড়কে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে কমছে না সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু।
এদিকে সড়কে দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, অতিরিক্ত ওজন বহন, চালকদের অদক্ষতা ও অসুস্থতা, চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অন্যতম কারণ।











