নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা এখন আর যথেষ্ট নয়।
তিনি জানান, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই সঙ্গে আদালতে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতেই পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব এসেছে।
মাদক সমস্যার বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিনথেটিক ও সেমি সিনথেটিক মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজকে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে। তার ভাষায়, “মাদকচক্রগুলো আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে, অথচ আমাদের কর্মকর্তাদের সেই সক্ষমতা সীমিত, অনেকটা ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মতো অবস্থায়।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই মাদকের প্রায় ১৮ হাজার মামলা এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার এই দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনের পাশাপাশি বিদ্যমান আদালতেও বিচার কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি।
প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, মানি লন্ডারিং এবং নতুন ধরনের অপরাধ ব্যবস্থার কারণে আইন কাঠামোকে আধুনিক করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পাশাপাশি সাইবার ও মানি লন্ডারিং আইনও আপডেট করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, হাজতখানা এবং পরিবহন সুবিধা সংযোজন। একই সঙ্গে মাদক শনাক্তকরণ পরীক্ষাগার না থাকায় দ্রুত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমেও বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার নতুন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪১৩ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, “সরকারের লক্ষ্য শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজে ফিরিয়ে আনা।”
সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর ভূমিকাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।











