মার্কিন হামলায় বিচ্ছিন্ন হাজারো মানুষের পানি সরবরাহ পুনঃস্থাপনের দাবি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জলাধার মেরামতের পর দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন গ্রামে পানি সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। ইরানি কর্মকর্তারা এ হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে দক্ষিণ ইরান এবং উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর পানি ও লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনাগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে।

 

৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সংঘটিত পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সিরিক শহরের দুটি জলাধারে আঘাত হানে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার আবদুলহামিদ হামজেহপুর বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।’

 

হরমোজগান পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক হামজেহপুর জানান, মেরামত কাজ শেষ করতে ‘১২ ঘণ্টারও কম সময়’ লেগেছে এবং কুহেস্তাক শহর ও বেমানি জেলার গ্রামগুলোর গ্রাহকদের জন্য সৃষ্ট অনিয়মিত পানি সরবরাহের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা হয়েছে।

 

ওয়াশিংটন দাবি করেছে, উপসাগরীয় জলসীমায় ইরানের হাতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।

 

তেহরান এ যুক্তিকে ‘মিথ্যা অজুহাত’ বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

 

জলাধারে হামলার পর বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অবকাঠামোর ওপর এমন ধারাবাহিক নৃশংস হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে হরমোজগান প্রদেশের বিচার বিভাগের প্রধান মোজতবা গাহরেমানি-ও বলেন, এই হামলা ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’।

 

এর আগে ৭ মার্চ, যুদ্ধের তুঙ্গ মুহূর্তে, ইরান জানিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপের একটি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রে মার্কিন হামলা হয়েছিল।

 

পরদিন বাহরাইন একটি পানি স্থাপনায় ইরানি হামলার খবর দেয়, যা কেশমে মার্কিন হামলার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়।