নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিশু আব্দুল্লাহ ও পারিসার নিষ্পাপ চোখ এখনো খুঁজে ফিরছে তাদের বাবা আবুল কালাম আজাদকে। বুঝতে পারছে না—যে মানুষটি প্রতিদিন কোলে তুলে আদর করতেন, তিনি আর পৃথিবীতে নেই।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি বেয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে নিহত হন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৩৮)। তিনি স্ত্রী প্রিয়া ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং রাজধানীর একটি বেসরকারি এজেন্সিতে চাকরি করতেন।

হঠাৎ করে স্বামীকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ প্রিয়া এখন দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা। তিনি বলেন, “আমাদের সংসার এখন কীভাবে চলবে? ছোট ছোট বাচ্চাগুলো নিয়ে সামনে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না। আমার স্বামীর মতো যেন আর কারো মৃত্যু না হয়।”
সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, এ অর্থ দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ টিকবে না।
নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি বলেন, “সরকারিভাবে ৫ লাখ টাকার কথা শুনেছি, কিন্তু এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি। আবুল কালাম পুরো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। অন্তত এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিলে তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ কিছুটা নিরাপদ হতো।”
আরেক আত্মীয় কাওসার আহমেদ বলেন, “আমরা মনে করি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। সরকারের উচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহিতায় আনা।”
নড়িয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, “ক্ষতিপূরণের ঘোষণা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে আমরা যোগাযোগ করে পরিবারের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
এই দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার। ছোট্ট আব্দুল্লাহ আর পারিসার ভবিষ্যৎ এখন সরকারের সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের উপর নির্ভর করছে।











