রেমিট্যান্স প্রবাহে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাত্র ১১ মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচ থেকে বেড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলারে। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে নিট রিজার্ভ ২৬.৬৭ বিলিয়ন ডলার।
এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ। সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। এটি দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড।
২০২৫ সালের মার্চে একক মাসে ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ওই অর্থবছরে প্রতিটি মাসেই রেমিট্যান্স এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “রেমিট্যান্সের এই উত্থান প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি আগ্রহ, মানি লন্ডারিং কমে যাওয়া এবং রপ্তানির প্রবৃদ্ধির ফল। সরকারের নীতিগত পরিবর্তন ও প্রশাসনিক সংস্কার জনগণের আস্থা বাড়িয়েছে।”
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, “রেমিট্যান্সের জোয়ার রিজার্ভ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ডলার সংকটে ভোগা অর্থনীতি এখন কিছুটা স্বস্তির মুখ দেখছে। এলসি খোলায় যে সংকট ছিল, তা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “ব্যাংক খাতকে শৃঙ্খলায় ফেরানো, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার মতো পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইউম চৌধুরী বলেন, “২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি বড় সফলতা। এটি সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস এনেছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকার আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। ডলারের জোগান বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে চাপ কমেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আরও দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির দিকে এগিয়ে যাবে, যদিও এখনো কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
