নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদুল আজহার প্রথম দিন থেকেই ঢাকার সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, আজ শনিবার (৩০ মে) চামড়া আসার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) বেলা ১১টা পর্যন্ত চামড়া শিল্প নগরীতে মোট ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৪৯টি কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্তই এসেছিল ২ লাখ ২২ হাজার ২৩৩টি চামড়া।
ট্যানারি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক ট্রাকে করে চামড়া ভেতরে ঢুকছে। শিল্প নগরীর প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ভেতরের পরিবেশ ছিল বেশ গোছানো। কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। চামড়া গাড়ি থেকে নামানো, যাচাই ও লবণজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা।
চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫২৯টি ট্রাকে এই চামড়াগুলো এসেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৯টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া রয়েছে ১৬ হাজার ৯০টি।
তিনি আরও জানান, আসা চামড়াগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের কাজ চলছে। ঈদের এই বাড়তি চাপ সামলাতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে। চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় এবার বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
প্রধান ফটকের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চামড়াবাহী প্রথম গাড়িটি ভেতরে ঢোকে। এরপর সময় বাড়ার সাথে সাথে ট্রাকের ভিড় বাড়তে থাকে। শুরুতে আসা চামড়াগুলোর বড় অংশই ছিল রক্তমাখা কাঁচা চামড়া, যা পাওয়ার পর শ্রমিকেরা দ্রুত লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
ট্যানারি মালিকেরা জানিয়েছেন, বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুম হওয়ায় চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। আগের মজুত থাকা সত্ত্বেও নতুন চামড়া পুরোদমে কেনা হচ্ছে।
আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, এবার তাদের প্রায় ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার লক্ষ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েক হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই দীর্ঘদিনের পরিচিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে নেওয়া।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মো. মিজানুর রহমান জানান, এ বছর দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। চামড়ার বড় বেচাকেনা সাধারণত রাতেই বেশি হয়, তাই রাতভর শিল্প নগরীতে চামড়া ঢোকা এবং তা সংরক্ষণের কাজ চলবে।











