নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন বাস টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী শেডে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ১৬টি জেলার দূরপাল্লার বাসের কার্যক্রম শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে দ্রুত কাঁচপুর টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো সেখানে নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে কাঁচপুরে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করলে ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তবে কাঁচপুরে টার্মিনাল স্থানান্তরের পর সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ শাটল সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসসিসির উদ্যোগে এই সেবা চালু করা হবে।
৫০ কোটি টাকার প্রকল্প
কাঁচপুর বাস টার্মিনাল নির্মাণে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ চলছে। বর্তমানে পুরো প্রকল্পের গড় অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ।
এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ এগিয়েছে ২৫ শতাংশ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন এই টার্মিনালে একসঙ্গে প্রায় ৪০৫টি বাসের ধারণক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে ৩৭৮টি বাস পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। থাকছে ২২টি বাস বে এবং পাঁচটি ওয়াশিং বে। পাশাপাশি ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন নির্মাণ করা হবে। টার্মিনালে থাকবে ১০৬টি টিকিট কাউন্টার। পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ছয়টি টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস এবং ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
গুলিস্তান টার্মিনাল নিয়েও পরিকল্পনা
সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গুলিস্তান বাস টার্মিনালও স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি জানান, গুলিস্তান বাস টার্মিনাল বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কাঁচপুর টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় নির্মাণকাজের গুণগত মানের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে কোনো ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
নতুন টার্মিনাল চালু হলে সায়েদাবাদ দিয়ে দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ ও চলাচল কমানোর মাধ্যমে রাজধানীর ভেতরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য প্রস্তাবিত শাটল সার্ভিস চালু হলে স্থানান্তরের পর যাত্রী পরিবহনের বিষয়টিও সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।







