‘সুইটি আমার ছেলের স্ত্রী নন, তাকে চিনিই না’: সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুলের বাবার দাবি

অনলাইন ডেস্ক:

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা প্রচারকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে নজরুলের পরিবার। তাদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ইন্টারনেটে নানা তথ্য ছড়ানো হলেও নজরুলের বাবার স্পষ্ট বক্তব্য—সুইটি তাঁর ছেলের স্ত্রী নন, এমনকি ওই তরুণীকে তাঁরা চেনেনও না।

নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। তাঁর বাবা আব্দুল বাছির জানান, দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে কলেজে পড়ার সময় নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে তো নজরুলের স্ত্রী নয়, আমরা তাকে কোনোদিন দেখিওনি, চিনিও না। শুনেছি তারা কেবল একই কর্মস্থলে কাজ করত। এছাড়া তাদের মরদেহ দেশে আসছে বলে যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেটিও সঠিক নয়।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় প্রায় সাত লাখ টাকা ঋণ করে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী নজরুল। তবে সেখানে গিয়ে মাত্র ছয় মাস কাজ করার সুযোগ পান তিনি। এরপর মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তারের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন দুজনই। দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বুধবার তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এদিকে নজরুলের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। ভাগ্নের মৃত্যুদণ্ডের খবর পেয়ে বুধবার রাতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম।

ছেলের এমন মর্মান্তিক পরিণতির পর দিশেহারা বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ‘সাত লাখ টাকা ঋণ করে পাঠিয়েছিলাম, ছেলে মাত্র দেড় লাখ টাকা পাঠাতে পেরেছিল। এখনো দেনাদাররা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমার ছেলেকে যদি বিনা অপরাধে বা লঘু পাপে এমন চরম দণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে, তবে আমি এর বিচার চাই। অন্তত শেষবারের মতো দেখতে ছেলের মরদেহটি যাতে দেশে ফেরত আনা হয়, সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনৈতিক তৎপরতার ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দূতাবাসের কার্যকর পদক্ষেপ ও যোগাযোগের অভাবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি হতে পারে। শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশ নিজেদের নাগরিকদের বাঁচাতে যে ধরনের জোরালো পদক্ষেপ নেয়, নজরুলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ন্যূনতম যোগাযোগও পরিবারের সঙ্গে করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, প্রবাসে বিচার প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের উপযুক্ত আইনি সহায়তা নিশ্চিত না করেই এই চরম শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সহায়-সম্বলহীন কৃষক পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পথে বসা স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।