অনলাইন ডেস্ক:
রোহিত শর্মার অবসরের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন বিরাট কোহলি। একসময়ের ভারতীয় টেস্ট দলের পোস্টার বয়ের এমন বিদায় ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্ন। কেউ বলছেন বোর্ডের সঙ্গে মতবিরোধ, কেউ আবার মনে করছেন, পরিবারকেই সময় দিতে চেয়েছেন কোহলি। যদিও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর রিপোর্ট বলছে, সিদ্ধান্তটি একান্তই ব্যক্তিগত।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, কোহলি গত এপ্রিলেই জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগারকর এবং বোর্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন। পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
বোর্ড তখন কোহলিকে অনুরোধ করেছিল যাতে তিনি তাড়াহুড়ো করে এমন সিদ্ধান্ত না নেন। তবে রোহিত শর্মার অবসরের দিনই ফের কোহলি যোগাযোগ করেন বোর্ডের সঙ্গে এবং জানিয়ে দেন, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির পর বিসিসিআই ক্রিকেটারদের জন্য নতুন ১০ দফা নির্দেশনা জারি করে। এর মধ্যে একটি ছিল—বিদেশ সফরের সময় পরিবার কেবলমাত্র ১৪ দিনের জন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকতে পারবে। দেড় মাসের ইংল্যান্ড সিরিজ সামনে রেখে এই নিয়ম নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন অনেকেই।
কোহলি ও রোহিত, দুজনেরই সন্তান অপ্রাপ্তবয়স্ক। ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার চিন্তাই হয়তো তাদের টেস্ট থেকে বিদায় নিতে প্রভাবিত করেছে।
কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ভারতের নতুন হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে কোহলির সম্পর্কটা খুব একটা সহজ ছিল না। কোচ-কাপ্তানের ভূমিকায় আগে আইপিএলে দেখা গিয়েছিল এই দুই তারকাকে, যেখানে দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল আগেও। ফলে কেউ কেউ বলছেন, কোহলি হয়তো গম্ভীরের অধীনে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি।
কোহলির এই সিদ্ধান্ত আরও বিস্ময় তৈরি করেছে কারণ বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ব্যর্থতার পর তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছিলেন। দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেন, যা অনেকের কাছেই ছিল ইংল্যান্ড সিরিজে ফেরার ইঙ্গিত। হঠাৎ করে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া সেই ধারাবাহিকতার সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কোহলি আগেও নিজের জীবনে পরিবারের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। একবার বলেছিলেন,
“মানুষকে পরিবারের গুরুত্ব বোঝানোর কাজটা খুবই কঠিন। আমার মনে হয় না মানুষ বুঝতে পারে, পরিবারের মানে ঠিক কতটা। আমি একা ঘরে গিয়ে বসে থাকতে চাই না, আমি সাধারণ মানুষের মতোই থাকতে চাই। সেটা করতে পারলে আমি খেলাকেও দায়িত্বের মতো করেই পালন করতে পারব।”
দুই সিনিয়র ব্যাটসম্যান—রোহিত ও কোহলির বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের সিরিজে চাপের মুখে রয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি মেটাতে কী কৌশল নেয় দল, সেদিকে তাকিয়ে এখন পুরো ক্রিকেট দুনিয়া।











