হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা: তেল আবিবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতার তদন্তে রাষ্ট্রীয় স্বাধীন কমিশন গঠন না করায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রায় ৫০০ জন অংশ নেন এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে।

 

শনিবার তেল আবিবের হাবিমা চত্বরে আয়োজিত এই বিক্ষোভে বক্তারা নেতানিয়াহুর সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। হামাসের হাতে নিহত জিম্মি ইয়োরামের পুত্রবধূ আয়ালা মেটজগার বলেন, ‘‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।’’

 

আয়ালা মেটজগারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিধিবদ্ধ তদন্ত কমিটি দেশটির সর্বোচ্চ স্বাধীন অনুসন্ধানকারী সংস্থা, যেখানে প্রধান বিচারপতির মনোনীত বিশেষজ্ঞরা দায়িত্ব পালন করেন। তবে নেতানিয়াহুর স্তাবিত তদন্ত ব্যবস্থায় রাজনীতিবিদরাই সদস্য নির্বাচন করবেন, যা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

 

আয়ালা মেটজগার অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত রাজনৈতিক কমিটিতে ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হলেও বিরোধী দল অংশ না নিলে কার্যত সরকারপক্ষের সদস্যরাই তদন্ত পরিচালনা করবেন।

 

আয়ালা মেটজগারের, এতে অভিযুক্তরাই নিজেদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত করবেন।

 

বিক্ষোভে বক্তব্য দেন নোভা সংগীত উৎসবে হামলায় নিহত ২৬ বছর বয়সী তরুণী ওরিয়ার বাবা এরান লিটম্যানও। তিনি বলেন, ‘‘ধর্মীয় উগ্রবাদের কারণেই তার মেয়েকে প্রাণ হারাতে হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।’’

 

এরান লিটম্যান দাবি করেন, হামাসের কট্টরপন্থীরা তার মেয়েকে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নিহত হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের রেখে যাওয়া একটি চিঠিতে মুসলিম পবিত্র স্থানগুলো নিয়ে বিরোধকে চলমান সংঘাতের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

 

লিটম্যান ধর্মীয় ব্যাখ্যার সমালোচনা করে বলেন, তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ সরকারের নীতির প্রতি, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি নয়। তিনি জানান, জাকা সেবা সংস্থার চারজন হারেদি স্বেচ্ছাসেবক তার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন এবং তাদের সাহসিকতার প্রশংসাও করেন।

 

বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে হাদার মাচতার নামের এক সরকার-সমর্থক ভিডিও ধারণ করতে গেলে সরকারবিরোধী এক ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে লিটম্যানের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং পরে উভয়কেই ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। তাদের বক্তব্য শোনার পর পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।