নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে আগামী রোববার (২৮ জুন) অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর প্রথম রাউন্ড। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, এবার সারা দেশে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ২২ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি চলবে। এ জন্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ১১ লাখ ৯৭ হাজার ২২৮ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হবে।
যেসব শিশু নির্ধারিত দিনে ক্যাম্পেইনের আওতায় আসতে পারবে না, তাদের জন্যও রাখা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। ডা. এম এ মুহিত বলেন, কোনো শিশু ২৮ জুন ক্যাপসুল খেতে না পারলে পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে। আর দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য এ কার্যক্রম আরও চার দিন চলবে। তিনি জানান, বরিশাল, পটুয়াখালী ও সুনামগঞ্জসহ ১২ জেলার ১৮টি উপজেলায় বিশেষ ব্যবস্থায় এই সেবা অব্যাহত রাখা হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, অপুষ্টি কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন চালু রয়েছে এবং প্রতিবছর দুই দফায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। চলতি বছরের দ্বিতীয় রাউন্ড ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় না। কারণ, তারা মায়ের বুকের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ পেয়ে থাকে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সারা দেশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পৌঁছে যাবে এবং মাঠপর্যায়ে সব প্রস্তুতি শেষ করার কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মসূচিকে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্টেশন শিশুদের রাতকানা ও অপুষ্টিজনিত নানা জটিলতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও কমাতে সহায়ক।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হবে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সারা দেশের অভিভাবকেরা শিশুদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে এলে এবারও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।











