৪৫তম বিসিএসে ৩৮৩ জন প্রভাষক পদে শিক্ষা ক্যাডারে পেলেন নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৩৮৩ জনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার, যাদের আগামী ৩১ অক্টোবর সশরীরে উপস্থিত হয়ে চাকরিতে যোগদান করতে হবে এবং পরবর্তীতে ১ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত আট দিনব্যাপী আবাসিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও শিক্ষা বিভাগ থেকে গত রবিবার ২৫ অক্টোবর সই করা এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপনটি ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৪ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনে সুপারিশ করা ৩৮৩ জন প্রার্থীকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী তাদের প্রত্যেকের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা।

নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ৩১ অক্টোবর পূর্বাহ্নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে এবং যোগদানের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), যেখানে নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিতে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং তাঁর নিয়োগপত্র বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে এবং প্রয়োজনে সরকার এই সময়সীমা সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে, তবে শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ শেষ এবং বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই কেবল তাদের চাকরি স্থায়ী করা হবে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরিতে যোগদানের পর সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি চাকরিসংশ্লিষ্ট পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণও গ্রহণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনের সুনির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী, শিক্ষানবিশকালে অথবা শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণসংক্রান্ত অগ্রিম ও ভ্রমণভাতাসহ প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় করা সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং এজন্য জামানতদারসহ ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে।

এ ছাড়া চাকরিতে যোগদানের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ জমা দিতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি পাঁচ বছর পরপর ডিসেম্বর মাসে সম্পত্তির হ্রাস-বৃদ্ধির হিসাবও জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, পাশাপাশি যোগদানের জন্য তারা কোনো ধরনের ভ্রমণ বা দৈনিক ভাতা পাবেন না।