দক্ষিণ কোরিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে প্রাচীন মন্দিরসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ২৬ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক:

দক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান ভয়াবহ দাবানলে প্রাচীন গৌনসা মন্দিরসহ অনেক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত পাঁচদিন ধরে চলা এই দাবানল দেশটির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এতে তিন শতাধিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং ৩৭ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গৌনসা মন্দির, যা খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮১ সালে নির্মিত হয়েছিল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উইসিং শহরের ডিউনগুন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মন্দিরটির প্রায় ২০টি ভবন আগুনের কবলে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র বাতাসের কারণে হেলিকপ্টার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে এবং দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দাবানলের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা ২৬-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৪ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এবং এক পাইলটও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দাবানলের উৎস দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু অঞ্চলে শুক্রবার থেকে শুরু হলেও শুষ্ক বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ৯ হাজার কর্মী এবং ১২০টি হেলিকপ্টার কাজ করছে। তবে, শুষ্ক বাতাসের কারণে আগুনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার রাতেই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আনদং শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘হাহো ফোক ভিলেজ’ ও পানচেওন গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক সু বলেছেন, এই ধরনের ভয়াবহ দাবানলের অভিজ্ঞতা দেশটি আগে কখনো পায়নি এবং সকল শক্তি দিয়ে এই দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, দাবানলের সূত্রপাত হয় বাসিন্দাদের ভুলের কারণে, যেমন সমাধি পরিষ্কারের জন্য ঘাসে আগুন দেওয়া বা ঢালাই কাজের স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়া।