অনলাইন ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের গাজায় গত মাসে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দীর্ঘদিনের সংঘাত পুনরায় শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ক্রমশ গাজার নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৫০ শতাংশেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে ফিলিস্তিনিরা ক্রমশ সঙ্কুচিত ভূখণ্ডে আটকে পড়ছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, এই এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা বসবাসের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
গতকাল, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার মধ্যাঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে। মধ্য গাজার ফিলিস্তিনিরা পালাতে বাধ্য হচ্ছেন, এবং দেইর আল বালাহ শহর থেকেও নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদরাই তার এক্স-পোস্টে দেইর আল বালাহের পাঁচটি এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন।
গত সোমবার ভোর থেকে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী কমপক্ষে ১০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। টিআরটি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের কাছে সাংবাদিকদের জন্য একটি তাঁবুতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে সাংবাদিক হেলমি আল-ফাকাওয়ি এবং আরেক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন, এবং আরও ৯ জন সাংবাদিক আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
এছাড়া, গাজার মধ্যাঞ্চলীয় পশ্চিম দেইর আল-বালাহ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হন। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, পূর্ব গাজা শহরের জেইতুন পাড়ায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
উত্তর গাজার আল-জুরন এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, এবং জাবালিয়া শহরে ইসরায়েলি হামলায় আরও দু’জন নিহত হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে গাজার জনগণের জন্য মানবিক সংকট তীব্র হচ্ছে, এবং তাদের জীবনযাত্রা ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে।











