ফিলিপাইনে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে চারটি গ্রামে ছাই ছড়িয়ে পড়ে

অনলাইন ডেস্ক:

ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের কানলাওন পর্বতের আগ্নেয়গিরি অল্প সময়ের জন্য সক্রিয় হয়ে আকাশে চার কিলোমিটার (২.৪ মাইল) উঁচু ছাই এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত চারটি গ্রামের স্কুলের ক্লাস বাতিল করেছে।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (পিভিএস) জানিয়েছে, কানলাওন পর্বতের অগ্ন্যুৎপাত এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এবং এর ছাই নেগ্রোস দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে চারটি কৃষি গ্রামে পৌঁছেছে। তবে, এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

পিভিএস-এর তথ্যানুসারে, আগ্নেয়গিরিটি যে কোনো সময় আবার সক্রিয় হতে পারে, সে কারণে কর্মকর্তারা অঞ্চলটি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। আগের বছর ডিসেম্বরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে অনেকেই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

ফিলিপাইনের প্রধান আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ তেরেসিতো বাকোলকোল জানান, আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার নতুন কোনো উদ্বেগজনক সূচক নেই। তবে, বর্তমানে সতর্কতার স্তর ৩ রাখা হয়েছে, যা ‘উচ্চ স্তরের আগ্নেয়গিরির অস্থিরতা’ নির্দেশ করে। তিনি বলেন, বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা সবসময় থাকে, তাই জনগণকে ৬ কিলোমিটার (৩.৭ মাইল) নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাউন্ট কানলাওন, যা ২,৪৩৫ মিটার (৭,৯৮৮ ফুট) উঁচু, ফিলিপাইনের ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে অন্যতম। এই আগ্নেয়গিরির আশেপাশে একাধিক বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৬ সালে চূড়ার কাছে এক অপ্রত্যাশিত অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তিনজন পর্বতারোহী নিহত হন এবং বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ঘনঘন ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়। প্রতি বছর, ফিলিপাইন প্রায় ২০টি টাইফুন এবং ঝড়ের কবলে পড়ে, এবং এই কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।