অনলাইন ডেস্ক:
আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ বতসোয়ানা থেকে বেরিয়ে এসেছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি হীরার খনি। গ্যাবোরোনে রাজধানী থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জোয়ানেং খনি, যা বর্তমানে ৯ হাজার ৬১৫ কোটি মার্কিন ডলার বাজারমূল্যের অমূল্য হীরার খনি হিসেবে পরিচিত। এই খনিটি ‘খনির রাজপুত্র’ নামে পরিচিত এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হীরার খনিগুলোর মধ্যে একটি।
জোয়ানেং খনিটি কিম্বারলাইট নামক এক বিরল আগ্নেয়শিলার পেটে অবস্থান করছে। কিম্বারলাইট হল একটি ভারী এবং খনিজে সমৃদ্ধ শিলা, যা পৃথিবীর অভ্যন্তরে গঠিত। হীরার উপস্থিতি এই শিলাকে অনন্য এবং মূল্যবান করেছে। এই খনি বছরে লাখ লাখ ক্যারাট হীরা উৎপাদন করছে এবং ২০২৩ সালে মাত্র একটি বছরে উৎপাদিত হীরার পরিমাণ ছিল ১৩৩ লক্ষ ক্যারাট।
এই খনিটি বতসোয়ানার অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা পালন করছে। ডেবসওয়ানা নামক সংস্থা এই খনিটি পরিচালনা করছে, যা ডি বিয়ার্স এবং বতসোয়ানা সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, বতসোয়ানার খনিগুলোতে আনুমানিক ৩০ কোটি ক্যারাট হীরা মজুত রয়েছে। এই খনির আয়ের মাধ্যমে বতসোয়ানা দেশটি বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।
জোয়ানেং খনিটি থেকে বিশ্বের বৃহত্তম হীরা আবিষ্কৃত হয়েছে। ১৯০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া ‘কালিনান’ হীরাটির ক্যারাট ছিল ৩,১০৬। বতসোয়ানার এই খনি থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হীরার খণ্ডও উদ্ধার হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সুনাম লাভ করেছে।
যদিও খনিটি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ-এর মুখোমুখি, এর বর্জ্য পাথরের কারণে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ২০০০ সালে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির জন্য আইএসও শংসাপত্র অর্জন করেছে। বর্তমানে, খনির সম্প্রসারণের জন্য একটি ‘কাট-৯’ নামক প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে খনির আয়ুষ্কাল ২০৩৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে খনির সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে এবং এই খনি থেকে আগামী ২০০০ কোটি পাউন্ড হীরা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।











