অনলাইন ডেস্ক:
ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সাথে যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি করতে সমুদ্রপথে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ এড়িয়ে মিয়ানমার হয়ে এই অঞ্চলের সাথে ভারতের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত মার্চে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছিলেন যে, উত্তর-পূর্ব ভারত ‘ভূবেষ্টিত’ এবং ঢাকাকে ‘মহাসাগরের একমাত্র অভিভাবক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, ভারত নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং উত্তর-পূর্ব ভারত সংক্রান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। বাংলাদেশে ভারতের প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়লে, ভারত নতুন পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে যায়।
ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ভারত সরকার শিলং থেকে শিলচর পর্যন্ত ১৬৬.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই সড়কটি এনএইচ-৬ মহাসড়কের অংশ হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এতে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মিয়ানমারে ইতোমধ্যে কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কলকাতা সমুদ্রবন্দর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তে বন্দরের সাথে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে কালাদান নদীপথ এবং সড়কপথে মিজোরাম পর্যন্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে, মিয়ানমার হয়ে ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সাথে সমুদ্রপথে সংযুক্ত হবে।
শিলং-শিলচর সড়ক চালু হলে, এই পথের যাত্রাপথ ৮ ঘণ্টা থেকে কমে ৫ ঘণ্টা হবে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুততর এবং কার্যকর করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত ও মিয়ানমার যৌথভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
এই পরিকল্পনা ভারত এবং মিয়ানমারকে একটি নতুন সমুদ্রপথে সংযুক্ত করবে, যা ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করবে। প্রস্তাবিত সড়কটি ইতিমধ্যেই অনুমোদিত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।











