অনলাইন ডেস্ক:
গত শুক্রবার লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দেবেইবাহ পদত্যাগের দাবিতে ত্রিপোলিতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সরকার উৎখাত এবং নির্বাচনের দাবি তুলে স্লোগান দেন। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে, আন্দোলনকারীদের কিছু সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করেন, যার ফলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল দেবেইবাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইব্রাহিম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমাদ তারবুলসি-এর ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, যেগুলোর ওপর লাল কালি দিয়ে ক্রস চিহ্ন আঁকা ছিল। বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা করেছেন যে, দেবেইবাহ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সংঘর্ষের পর, একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং সরকারি ভবনের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর আগে, চলতি সপ্তাহে ত্রিপোলিতে বিরোধী সশস্ত্র দুটি দলের মধ্যে সংঘর্ষে আট বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই পরিস্থিতির পর, দেবেইবাহের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন অর্থনীতি ও বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-হাওয়িজ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বদরেদ্দিন আল-তামি, এবং আবাসনমন্ত্রী আবু বকর আল-গাওয়ি।
২০২১ সালে জাতিসংঘ সমর্থিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেবেইবাহ ক্ষমতায় আসেন। তবে, বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, যার ফলে তিনি এখনও ক্ষমতায় রয়েছেন। তার শাসনামলে, গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
দেবেইবাহ সম্প্রতি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিলুপ্ত করার জন্য একটি আদেশ জারি করেন, তবে এই পদক্ষেপটি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। তিনি লিবিয়ার জনগণের সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যাদের দাবি, তিনি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছেন।











